… এবারই প্রথমবারের মতো দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে প্রকাণ্ড আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের চরিত্র দক্ষিণপন্থী।…বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন দক্ষিণপন্থী রাজনীতির বিপুল প্রাধান্য। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ সবগুলোই দক্ষিণপন্থী। বামপন্থী দলগুলোর উপস্থিতি সামান্য। এটিই বর্তমান রাজনীতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক।
… ছাত্রদের দলের মধ্যে তো বড় রকমের আদর্শের কথা থাকা দরকার। কিন্তু এ ধরনের কোনো কিছু দলটির মধ্যে নেই।…এদের শ্রেণী অবস্থা হলো এমন যাতে করে বাংলাদেশের কৃষক-শ্রমিক বা অন্য কোনো উৎপাদক শ্রেণীর সঙ্গে তারা সম্পর্কিত না। বরঞ্চ আশ্চর্যজনকভাবে দেখা যাবে, তারা সবচেয়ে বেশি ব্যবসায়ী শ্রেণীর সঙ্গে সম্পর্কিত।…এখন যেটি শোনা যায় শুধু সাংগঠনিকভাবেই তারা আয় করেছে এমন নয়। নিজেরাও অনেক টাকা আয় করে ফেলেছে।
… দ্রুত ক্ষমতায় যেতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় লোকজন দাঁড় করিয়ে যাতে নির্বাচনে সুবিধা নেয়া যায় সেই চেষ্টাই তারা করছে। তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা সে রকমই। তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি কিংবা ম্যানিফেস্টো নেই। মৌলিক সমস্যা নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই।
… মধ্যপন্থী বলে কিছু নেই। হয় বামপন্থী অথবা দক্ষিণপন্থী হতে হবে। আর মধ্যপন্থী যারা বলে তারা আসলে দক্ষিণপন্থী। নিজেদের দক্ষিণপন্থী বলতে চায় না বলেই নিজেদের মধ্যপন্থী বলে।
… তাদের ধর্মীয় কথাবার্তা ও আচরণে এটি প্রকাশ পাচ্ছে। যার জন্য জামায়াতের সঙ্গে তাদের মাঝেমধ্যে দ্বন্দ্ব হলেও মোটামুটিভাবে তাদের সঙ্গে দলটির সম্পর্ক ভালো। এছাড়া দল গঠনের পর শ্রমজীবী ও কৃষকদের নিয়ে তাদের কোনো কথা নেই। তাদের সবচেয়ে বড় দাবি হলো আওয়ামী লীগ (নিষিদ্ধ ঘোষিত) বিরোধিতা। অন্যটি হলো তারা নির্বাচন করতে চায়।
… যত দিন যাচ্ছে ততই শাসন ব্যবস্থার ওপরে সরকারের নিয়ন্ত্রণ আলগা হয়ে যাচ্ছে। ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না দিলে সামনের দিনে নৈরাজ্য বেড়ে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। কিন্তু এ সরকারের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তারা যতদূর সম্ভব টেনে শাসনকাল বাড়াতে চাচ্ছে, এটি ক্ষতিকর।
… কোনো একটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে আগেও কথা বলেছি, এখনো আমি এটার বিরুদ্ধে। কিন্তু (নিষিদ্ধ ঘোষিত) আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জন্য জনগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যে আওয়াজ তুলেছে, সেটিকে সমর্থন করি। কেননা আওয়ামী লীগ (নিষিদ্ধ ঘোষিত) এখন কোনো রাজনৈতিক দল নয়; শেখ মুজিবের সময় যে আওয়ামী লীগ ছিল তার মতো নয়।
শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগ যতই ফ্যাসিস্ট হোক তা বাইরের কোনো শক্তির দ্বারা পরিচালিত হতো না। এখন যে আওয়ামী লীগ (নিষিদ্ধ ঘোষিত) আছে এ দল ষোলো আনা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে। শেখ হাসিনা অন্য কোনো জায়গা না পেয়ে ভারতে বসে আছে।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করলে তারা ভারতের অর্থ-সম্পদ এবং অন্যান্য সাহায্য নিয়ে এখানে শক্তি হিসেবে দাঁড়াবে। তারা কোনো দিন নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কিন্তু এখানে নানারকম অন্তর্ঘাতমূলক কাজের মাধ্যমে দেশ ও জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এ অবস্থায় তাদেরকে কাজ করতে দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা আমি দেখি না।
… সাধারণ রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা আর আওয়ামী লীগ (নিষিদ্ধ ঘোষিত) ব্যান করা এক বিষয় না। তারা বাইরের শক্তির গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছে। … নানারকম দুষ্কৃতকার্য করায় আওয়ামী লীগ পড়ে গেছে। দেশের জনগণ এবং সরকারের ভয়ে তারা ভারতে পালিয়ে গেছে। জনগণকে দেয়ার মতো তাদের কিছু নেই। তাই মানুষ যে আওয়ামী লীগের জন্য উঠে দাঁড়াবে এমন সম্ভাবনা একেবারেই নেই। এছাড়া তারা জড়ো হতে পারলে অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করবে।


