মিসরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা দ্বিতীয় দিনের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিসরের পর্যটন শহর শারম-আল-শেখে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে হামাসের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইসরায়েলের কাছ থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা চায়।
এই আলোচনার মূল কাঠামো গঠিত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, হামাস গাজায় থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিলে ইসরায়েল ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। তবে হামাসের অভিযোগ, পরিকল্পনায় সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া অস্পষ্ট রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবারের এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় গাজা যুদ্ধে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে। ওইদিন ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “গাজা ইস্যুতে একটি চুক্তি হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই শারম-আল-শেখে হামাস ও ইসরায়েলের আলোচকরা পরোক্ষভাবে আলোচনায় বসেন। আজও মিসরে আলোচনা চলবে, যেখানে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
হামাসের শীর্ষ নেতা ফাওজি বারহুম জানিয়েছেন, তাঁদের আলোচকরা যুদ্ধের অবসান চান এবং গাজা থেকে দখলদার ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারই তাঁদের প্রধান শর্ত। তিনি বলেন, “আমরা এমন এক সমাধান চাই যা স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করবে এবং ফিলিস্তিনি ভূমি থেকে শেষ ইসরায়েলি সৈন্যও সরে যাবে।”
তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের সময়সূচি নির্দিষ্ট করা হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, হামাস যখন তাদের হাতে থাকা ৪৮ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে, তখনই সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই জিম্মিদের মধ্যে প্রায় ২০ জন এখনো জীবিত আছেন।
হামাসের আরেক নেতা খলিল আল-হায়া মিসরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ-কে বলেন, “আমরা দখলদার বাহিনীকে এক সেকেন্ডের জন্যও বিশ্বাস করি না। আমরা চাই যুদ্ধের অবসান ঘটুক, তবে এমন নিশ্চয়তা দরকার যাতে এই যুদ্ধ আর কখনো পুনরায় শুরু না হয়।”
একই সঙ্গে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সমন্বিত জোট এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা “সব উপায়ে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে” এবং “ফিলিস্তিনি জনগণের অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।” এই বিবৃতির মাধ্যমে তারা সরাসরি ট্রাম্পের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হামাসের অস্ত্র সমর্পণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে আলোচনা চলার মধ্যেও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা-র তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার ট্রাম্প ইসরায়েলকে বোমা হামলা বন্ধের আহ্বান জানানোর পরও হামলা অব্যাহত আছে। ওই সময় থেকে গতকাল পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
হামাসের নেতারা বলছেন, যুদ্ধবিরতির কোনো আলোচনা তখনই অর্থবহ হবে, যখন ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের লিখিত নিশ্চয়তা দেবে এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধ পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করবে। অন্যথায়, তারা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।


