বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে ৩ কোটিরও বেশি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন। দেশে মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ১৮.৭% মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ৭ থেকে ১৭বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে ১২.৬% মানসিক সমস্যার শিকার। নারীদের ক্ষেত্রে মানসিক সমস্যার হার ১৯%, যা প্রতি পাঁচজনে একজন।কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ‘সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট’ (এসএইচআরএম) গত বছর একটি গবেষণা চালায়।
গবেষকরা ১ হাজার ৪০৫ জন মার্কিন কর্মীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখাতে পান ৪৪% কর্মক্ষেত্রে অস্বস্তি বোধ করছেন। ৪৫% তাদের কাজ থেকে আবেগগত নিঃস্ব বোধ এবং ৫১% কর্মদিবস শেষে শোষিত হয়েছে মনে করেন। আমাদের দেশের পরিপেক্ষিতেও কিন্তু এ চিত্র ভিন্ন কিছু নয়।দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষণা থেকে জানা যায়, মানসিক সমস্যায় আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৯৪% কোনো ধরনের চিকিৎসা পান না। দেশে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সংখ্যা মাত্র ৩০০ জনের মতো। যেটি প্রয়োজনের তুলনায় অত্যাধিক অত্যন্ত কম।বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
সামাজিক কুসংস্কারের শিকার হয়ে মানসিক রোগ নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এবং লজ্জার কারণে অনেকে চিকিৎসা নিতে চান না।অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় এবং সরকারি সহায়তার অভাব অনেক রোগীকে চিকিৎসার বাইরে রাখছে।মানসিক রোগ বা মনের সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও সচেতনতার অভাবে অনেকে সমস্যার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেন না। নীরবে নানা সমস্যার মধ্যে মানিয়ে বাঁচার চেষ্টা চালিয়ে যান।দেশে জনগণের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য যে পদক্ষেপ গুলো নেওয়া যেতে পারে সেগুলো হলো, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে গণমাধ্যম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সেবা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো দরকার। তাছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমিয়ে সকল সাধারণ মানুষের জন্য সেবা সহজলভ্য করতে হবে।


