বাংলাদেশে বর্তমানে খাদ্য পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা মো. আলী ইমাম মজুমদার। তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, ভবিষ্যতে খাদ্য নিয়ে কোনো ধরনের ঝামেলায় পড়তে হবে না। বুধবার (২৮ মে) ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বোরো সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, মজুদ ও বিতরণ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় খাদ্য উপদেষ্টা জানান, চলতি মৌসুমে সারা দেশে খাদ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে এবং এতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলেই সরকার আশাবাদী। তিনি জানান, ২০২৫ সালের বোরো সংগ্রহ অভিযানে ১৪ লাখ টন চাল ও সাড়ে ৩ লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা আরও দৃঢ় হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে খাদ্য মজুদ রয়েছে ১৫ লাখ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ টন বেশি। এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি ইতিবাচক সূচক হলেও তিনি সতর্ক করে বলেন, “সন্তোষজনক অবস্থা সব সময় ঠিক রাখা যায় না। কারণ খাদ্য প্রতিনিয়ত খরচ হচ্ছে, আবার নতুনভাবে যোগ হচ্ছে।” তাই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
খাদ্যশস্য আমদানি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করে থাকে। গত বছরও আমদানি করতে হয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি চলতি মৌসুমে আমন ধানের ফলন ভালো হয়, তাহলে হয়তো চাল আমদানি করতে হবে না। যদিও গমের ক্ষেত্রে দেশের সম্পূর্ণ চাহিদা আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
উল্লেখ্য, দেশে বছরে গমের মোট চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন, কিন্তু দেশের নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা মাত্র ১০ লাখ টন। ফলে ৬০ লাখ টনের বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়, যা মূলত বেসরকারি খাত থেকেই আমদানি করে পূরণ করা হয়ে থাকে। ময়মনসিংহ বিভাগের খাদ্য মজুদের ধারণ ক্ষমতা কিছুটা কম থাকায় এই অঞ্চলে পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলার জন্য সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) তাহমিনা আক্তার, আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা আবু নাঈম মো. শফিউল আলম, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মুফিদুল আলমসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা।


