বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, এখন দেশের অর্থনীতি অনেকটাই স্থিতিশীল। প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩০ শতাংশ, আর সরকারের খরচ কমে আসায় রিজার্ভও বেড়েছে।
আগে নির্ধারিত দামে ডলার কেনাবেচা হতো, এখন ব্যাংকগুলো গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনা করে দাম ঠিক করতে পারবে। তবে অতিরিক্ত দাম বা সিন্ডিকেট করলে তা বরদাশত করা হবে না বলে জানান গভর্নর। বাজারে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া নজরদারি। পাশাপাশি রিজার্ভ থেকে ৫০ কোটি ডলারের তহবিল গঠন করা হয়েছে যাতে দরকার হলে বাজারে ডলার সরবরাহ করা যায়।
এখন প্রবাসী আয় ভালো, রপ্তানি আয়ও বেড়েছে—তাই এই সময়টিকে ডলারের দাম বাজারভিত্তিক করার জন্য উপযুক্ত মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে দুই কিস্তির ঋণের টাকা একসঙ্গে ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ জুনের মধ্যে ১৩০ কোটি ডলার পাবে। এ ছাড়া ঋণের মোট পরিমাণও বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
আগের কিছু শর্ত পূরণ না হওয়ায় কিস্তির অর্থ আটকে ছিল। এখন ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার ঘোষণা, রাজস্ব বিভাগ পুনর্গঠন এবং ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আইএমএফের শর্ত পূরণ হয়েছে।
আইএমএফ বলছে, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে, তাই সরকারের অনুরোধে তারা ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে।তবে নতুন করে সুপারিশও দিয়েছে, যেমন কর ছাড় কমানো ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সংস্কারগুলো সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনার অংশ এবং জাতীয় স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।
উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় জুনের মধ্যে আরো প্রায় ২০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সরকার। এই ৩৫০ কোটি ডলার অর্থ আসলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে এবং মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকবে। ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২২ সালের শুরুতে ডলারের দামে যে অস্থিরতা শুরু হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তা থেমে গেছে। অর্থ পাচার কমে আসায় বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়ছে। এতে রিজার্ভও বাড়ছে। এ ছাড়া আর্থিক হিসাবের ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্তে পৌঁছেছে, কমে এসেছে চলতি হিসাবের ঘাটতি।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সাড়ে ১০ মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রায় ২৫ বিলিয়ন বা আড়াই হাজার কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগে দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে। সেবার প্রবাসীরা পাঠান ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার।
অন্যদিকে আন্তদেশীয় বাণিজ্য নিষ্পত্তি সংস্থা এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বকেয়া পরিশোধের পরও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওপরে রয়েছে। মোট রিজার্ভ রয়েছে ২৫ বিলিয়নের ওপরে।


