আজ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এর মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন শুরু হয়েছে। গত বছর বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটি দুই দেশের মধ্যে প্রথম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন। বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিজিবি মহাপরিচালকসহ ১৩ সদস্যের একটি দল, যাদের মধ্যে রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর এবং যৌথ নদী কমিশনের কর্মকর্তারা। ভারতের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিএসএফ মহাপরিচালক, এবং এতে ভারতীয় স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।
সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে থাকবে, সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো, সীমান্ত হত্যা, আহত, আটক এবং অপহরণ রোধ। ভারত থেকে মাদক, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ নিষিদ্ধ দ্রব্যের চোরাচালান রোধ। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও ১৫০ গজের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ। ভারতের আগরতলা থেকে আখাউড়া সীমান্তের চারটি খালের বর্জ্য পানি অপসারণ এবং পানি শোধনাগার স্থাপন। আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সম্পর্কিত তথ্য বিনিময়।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির জন্য ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হবে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি, ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার কুচবিহার সীমান্তে বিএসএফ (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেন ১৫ বছরের বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী বেগমকে। ফেলানী বেগম বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার অন্তর্গত এক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মাছিমপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন। নিহতের নাম সাইদুল ইসলাম (২৩)। তিনি অবৈধভাবে চিনি আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে।
৬ ডিসেম্বর, পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় বিএসএফের গুলিতে আনোয়ার হোসেন (৩৬) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন। তিনি ভারত থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে নিহতের মরদেহ ফেরত আনার চেষ্টা করে। ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মাছিমপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলিতে সাইদুল ইসলাম (২৩) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হন। তিনি অবৈধভাবে চিনি আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। এসমস্ত বিষয়ও আলোচনায় থাকবে বলে আশা করে যাচ্ছে।
তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে ভারত ও বাংলাদেশের কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বিএসএফ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া, দিনহাটার গীতালদহে বিএসএফ সদস্যরা আক্রান্ত হন, এবং নারায়ণগঞ্জ সীমান্তে পাচারকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে একাধিক আহতের ঘটনাও ঘটে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত সম্মেলনে দুই বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, সীমান্তে সংঘর্ষ রোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। সম্মেলনটি ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে, যেখানে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের জন্য ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হবে।


