আমাদের ত্বক তিনটি স্তর নিয়ে গঠিত, এপিডার্মিস (বহিঃস্তর), ডার্মিস (মধ্যন্তর), এবং সাবকিউটেনিয়াস (অভ্যন্তরীণ স্তর)।যখন শরীর দ্রুত বাড়ে বা কমে, তখন ডার্মিস স্তরটি প্রসারিত হয়ে পড়ে যায়, ফলে তৈরি হয় ফাটা দাগ বা স্ট্রেচ মার্ক। এই দাগগুলো সাধারণত লালচে, বেগুনি বা বাদামি রঙের সরু লাইন হিসেবে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে রূপ নেয় হালকা সাদা বা রূপালি দাগে। এটি ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামক প্রোটিনের ক্ষতির কারণে হয়। এই উপাদানগুলো ত্বককে নমনীয় ও টান সহ্য করার মতো করে তোলে।
স্ট্রেচ মার্ক হওয়ার সাধারণ কারণগুলো হচ্ছে
- গর্ভাবস্থায় নারীদের পেট, কোমর বা উরুতে স্ট্রেচ মার্ক হওয়া খুবই সাধারণ।
- হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে বিশেষ করে টিনএজ বয়সে হরমোনের তারতম্যের কারণে দ্রুত ওজন বা উচ্চতা বৃদ্ধিতে দাগ হতে পারে।
- হঠাৎ ওজন কমানো বা বাড়ানো।
- দ্রুত মাংসপেশি বৃদ্ধি পেলে ত্বক টান পড়ে স্ট্রেচ মার্ক তৈরি হয়।
- স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহারেও দাগ পড়ে যেতে পারে।
- সমাধান ও প্রতিকার
- স্ট্রেচ মার্ক পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব না হলেও, কিছু উপায়ে তা হালকা বা প্রায় অদৃশ্য করা যায়।
- কোকো বাটার, শিয়া বাটার, অ্যালোভেরা জেলড়এই উপাদানসমৃদ্ধ ক্রিম ত্বকের নমনীয়তা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
- ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শে ব্যবহারে নতুন দাগ হালকা হতে পারে।
- উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতি কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে এসব দাগ হালকা করে।
- সূক্ষ্ম সূচের মাধ্যমে ত্বকে ক্ষুদ্র ক্ষত তৈরি করে পুনরায় টিস্যু গঠনকে উদ্দীপিত করে।
- পর্যাপ্ত পানি পান ও ভিটামিন সি, ই ও জিঙ্কযুক্ত খাবার ত্বক সুস্থ রাখে।
স্ট্রেচ মার্ক একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার ফল হয়ে শরীরের পরিবর্তনের সাক্ষ্য দেয়। এটি লজ্জার নয়। বিশেষত নারীদের জন্য মাতৃত্বের স্মারক। দাগ হালকা করতে নিয়মিত যত্নের বিকল্প নেই।


