তুরস্কের সঙ্গে চার দশক ধরে সংঘাতে জড়িত নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) তাদের নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের আহ্বানে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছে এবং পার্টিকে বিলুপ্ত করার সংকল্প ব্যক্ত করেছে। ১ মার্চ বিবৃতিতে পিকেকে তুরস্ক সরকারের প্রতি তাদের নেতা ওজালানকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে; যাতে তিনি ‘নিরস্ত্রিকরণ প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিতে পারেন’।পিকেকে ও তুর্কি রাষ্ট্রের মধ্যে শান্তির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কুর্দিপন্থি ডিইএম পার্টির একটি প্রতিনিধিদল আবদুল্লাহ ওজালানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাগারে যান। যেখানে তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে বন্দি রয়েছেন।
প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতের পর ওজালান একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে পিকেকে কে অস্ত্র সমর্পনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এই আহ্বানের ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ করছি। সব গোষ্ঠীকে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে এবং পিকেকে অবশ্যই বিলুপ্ত হতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি কুর্দিদেরকে তুরস্কের সাথে সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের সঙ্গে মিলিত হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তুরস্ক সরকারের সহযোগী এবং কট্টর – জাতীয়তাবাদী দল এমএইচপির নেতা দেবলেত বাহচেলির মধ্যস্থতায় কয়েক মাস আগে শুরু হয় এই শান্তি উদ্যোগ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি অঞ্চলজুড়ে বসবাস করেছে কুর্দি গোষ্ঠী। বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্য বিভিন্ন জাতিরাষ্ট্রে ভাগ হলেও কুর্দিরা স্বতন্ত্র রাষ্ট্র পায়নি। ইরাক, ইরান, সিরিয়া, তুরস্কড়এই চারটি দেশে ছড়িয়ে আছে তারা।
কুর্দিস ইনস্টিটিউট প্যারিসের ২০১৭ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী তিন দশমিক ছয় থেকে সাড়ে চার কোটি কুর্দি জনগণ আছে। বিবিসি জানায়, তুরস্কের আট কোটি পাঁচ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশই কুর্দি। কুর্দিদের জন্য একটি স্বতন্ত্র মাতৃভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮৪ সাল থেকে তুরস্কে বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে পিকেকে। পরে বিচ্ছিন্নতাবাদী লক্ষ্য থেকে সরে এসে দক্ষিণ – পূর্ব আনাতোলিয়ায় আরো বেশি স্বায়ত্তশাসিত একটি অঞ্চল এবং কুর্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অধিকারের দাবি জানাতে থাকে।
পিকেকে – র সাথে যুক্ত গোষ্ঠীগুলো তুরস্কে মাঝেমধ্যেই হামলা চালায়। তুরস্কের পাশাপাশি সিরিয়া ও ইরাকেও এই গোষ্ঠীর সদস্যদের অবস্থান রয়েছে। তুরস্ক ও এর মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র মার্ক্সবাদী পিকেকে – কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বিদ্রোহ শুরুর পর থেকে সহিংসতায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কুর্দি- সমর্থিত রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ব্যাপক কঠোর অবস্থানে যায় তুরস্ক সরকার। অনেক নেতাকেই গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেয়। বাশার আল -আসাদের পতনের পর সিরিয়ার কুর্দি – অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতেও হামলা চালাতে থাকে তুরস্ক – সমর্থিত বাহিনীগুলো। গত মাসে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসকে নির্মূল করার জন্য সিরিয়ার নতুন প্রশাসনকে আহ্বান জানায় তুরস্ক।


