ঢাকায় চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য চরমে উঠেছে। তারা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে আতঙ্ক ছড়াতে গুলি করে তার ভিডিও ধারণ করার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এলাকায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠায় চাঁদাবাজি বেড়েছে। এই সমস্যা সমাধানে ‘রাজনৈতিক সহায়তা’ দরকার। মূলত, পুরনো কায়দায় হুমকি দিয়ে ঢাকায় চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। তবে কাকে কী বলে হুমকি দিলে কাজ হবে, দৃশ্যত সেটা নিয়ে ভেবেচিন্তে কাজ করছে সন্ত্রাসীরা। চাঁদা না দিলেই দেওয়া হয় অপহরণ বা হত্যার হুমকি। কখনো কখনো সত্যি সত্যিই হত্যার ঘটনাও ঘটছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হচ্ছে নির্মাণাধীন ভবন ও বাণিজ্যিক আবাসন প্রকল্পগুলোতে।শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও চাঁদাবাজির বড় শিকার। ডিএমপির হিসাব বলছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত ৪৭ দিনে ঢাকা মহানগর পুলিশের ৮টি ক্রাইম বিভাগের ৫০টি থানায় ১১৩টি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৪৪ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে মতিঝিল, তেজগাঁও ও গুলশানে। পুলিশ কর্মকর্তা এবং ভুক্তভোগীরা বলছেন, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুসংখ্যক শীর্ষ অপরাধীর মুক্তিও চাঁদাবাজির মাত্রা বাড়িয়ে তোলার জন্য দায়ী। ডিএমপির একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতার হাতবদলের পর চাঁদাবাজদের মুখ পরিবর্তন হয়েছে মাত্র, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি।
গত জানুয়ারিতে এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজদের একটি তালিকা করে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। তবে তাতে আশানুরূপ ফল আসেনি।চাঁদাবাজেরা রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গত এক সপ্তাহে চাঁদাবাজির অভিযোগে একাধিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের গঠিত নতুন রাজনৈতিক দলের নেতাও রয়েছেন। ভুক্তভোগীরা দাবি করছেন, ক্ষমতার পালাবদলের পরের অনিশ্চয়তা এবং অস্থিরতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তাও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যের জন্য দায়ী। পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকলেও রাজনৈতিক সহায়তা ছাড়া এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধ করা কঠিন।


