ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘ডিকটেটর’ অভিহিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে তিনি বাজে কাজ করেছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ ও এক্সে তিনি লিখেছেন- ‘মাঝারি সাফল্যের এক কৌতুক অভিনেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে রাজি করিয়েছেন এমন এক যুদ্ধের জন্য যেখানে জেতা সম্ভব নয়, যেটা শুরু করাই উচিৎ হয়নি এবং যেটা যুক্তরাষ্ট্র ও “ট্রাম্পকে ছাড়া মীমাংসা করার ক্ষমতাও তার নেই।’
‘যুক্তরাষ্ট্র (এই যুদ্ধে) ইউরোপের চেয়ে ২০০ বিলিয়ন ডলার বেশি ব্যয় করেছে, ইউরোেপ তাদের উশুল আদায় করে নিতে পারলেও যুক্তরাষ্ট্র কিছুই ফেরত পাবে না। অথচ এই যুদ্ধ আমাদের চেয়ে ইউরোপের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ-আমাদের আলাদা করেছে মাঝের বিশাল, সুন্দর মহাসাগর। অথর্ব জো বাইডেন অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কেন সমতা দাবি করেননি? তার ওপর জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন যে আমরা তাকে যে অর্থ দিয়েছি তার অর্ধেকরই ‘হদিস নেই’। তিনি নির্বাচন দিতেও রাজি হননি, কারণ ইউক্রেনের জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা খুবই কম এবং তিনি কেবল বাইডেনকে ‘বাদ্যযন্ত্রের মতো বাজানো’তে নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন।’
নির্বাচন না দেওয়া ডিকটেটর জেলেনস্কি যদি দ্রুত সব সমাধান না করেন, তাহলে তার কাছে আর কোনো দেশই থাকবে না। এরই মধ্যে আমরা সফলভাবে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করছি এবং যে বিষয়টি সবাই স্বীকার করে যে একমাত্র “ট্রাম্প” এবং ট্রাম্প প্রশাসনই এটা করতে পারবে। বাইডেন কখনো চেষ্টা করেননি, ইউরোপ শান্তি ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং জেলেনস্কি সম্ভবত এই চান এই পরিস্থিতি চলতে থাকুক।’ আমি ইউক্রেনকে ভালোবাসি, কিন্তু জেলেনস্কি এক ভয়াবহ কাজ করেছেন। তার দেশ বিধ্বস্ত, লাখো মানুষ অকারণে মারা গেছেন এবং এই ধ্বংসযজ্ঞ এখনো চলছে…।’ উল্লেখ্য, গত বছর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলনস্কির পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এতদিন ইউক্রেনকে তহবিল ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছে; কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ নীতি পরিবর্তন করেছে এবং ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।


