চলতি বছরের প্রথম ধাপে জাপানের অর্থনীতি বার্ষিক হারে ০.৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত এক বছরে এই প্রথম কোনো সংকোচনের ঘটনা। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ের এই অর্থনৈতিক সংকোচনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি ও রপ্তানি খাতে ধস।
বিশ্লেষকদের মতে এই সংকোচন জাপানের জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা। বিশ্ববাজারে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে আরোপিত শুল্কনীতি জাপানি পণ্যের প্রতিযোগিতাশক্তিকে হ্রাস করেছে।
প্রথম প্রান্তিকে জাপানের রপ্তানি ০.৬ শতাংশ হ্রাস পায়, এটি দেশের মোট জিডিপি থেকে ০.৮ শতাংশ পয়েন্ট কেটে নেয়। এর ফলে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ শিল্প, যা বহু বছর ধরে জাপানের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচিত।
একই সময়ে ব্যক্তি পর্যায়ের ভোগব্যয় স্থবির থাকে, যা জাপানের জিডিপির অর্ধেকেরও বেশি। মূল্যস্ফীতির চাপ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ভোক্তাদের ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। যদিও পুঁজি বিনিয়োগে ১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে, তা সামগ্রিক নেতিবাচক প্রবণতাকে থামাতে পারেনি।
বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলার মতো এ সংকটের আরও একটি দিক হলো যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে প্রবর্তিত “রিপ্রোসিটরি ট্যারিফ স্কিম” জাপানি রপ্তানিকারকদের জন্য একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
আগামী জুলাই মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র জাপানি গাড়ি ও প্রযুক্তিপণ্যের ওপর ২৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে, যা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (BOJ) এখন পর্যন্ত সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে এবং সংকট মোকাবেলায় মুদ্রানীতির বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে যদি এই সংকোচনের ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে সুদের হার বৃদ্ধির পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে হতে পারে।
বৈশ্বিক বাজারে জাপানের বর্তমান অবস্থান নিয়ে StratNews Global-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “জাপানের অর্থনীতি এখন এক জটিল চক্রে ঢুকে পড়েছে—রপ্তানি কমছে, ভোক্তা আস্থা দুর্বল আর বাণিজ্যিক কূটনীতি অনিশ্চিত।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাপানের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে একদিকে যেমন বিকল্প রপ্তানি বাজার খুঁজতে হবে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পুনরুদ্ধারে কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে।


