… তারা এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা বলুক কিংবা বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্নকরণের প্রচেষ্টা বলুক না কেন, ট্রাম্পের শুল্ক বাজেভাবে ভেঙে পড়া একটি অর্থনৈতিক মডেলকে রূপান্তরের প্রচেষ্টা। আর এটি এমন কিছু, যা বিশ্বে আমাদের সবাইকে প্রভাবিত করবে। … কোভিড-উত্তর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে পরাজিত করতে জো বাইডেন বড় আকারের কর আরোপ, ধার করে ব্যয় করার কর্মসূচি নিয়েছিলেন। সেখানে ট্রাম্প একই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য শুল্ক আরোপ করলেন।… ট্রাম্পের কাছে শুল্ক দর-কষাকষি বা আলাপ-আলোচনার কৌশল নয়, এটি একটি নতুন রাজস্ব ঢেউ এবং তাঁর ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করো’ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।
… আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মডেলটা ভেঙে গেছে। তিনি (ট্রাম্প) বৈশ্বিক মন্দার মতো বাস্তব বিষয় থেকে উদ্ভূত সংকটে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। ২০০৮-০৯-এর ব্যাংক খাতের সংকট এবং ২০২০ সালের কোভিড মহামারির সম্মিলিত প্রভাব থেকে জন্ম নেওয়া সংকট মোকাবিলা করছেন। … আজকের অর্থনীতির যে বোঝা, তার সাধারণ মূলটা হলো উপচে পড়া ঋণ ও দেনা। ২০০৮ সালে ব্যাংক খাতের বিপর্যয়ের কারণ ছিল এটা।…বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করে প্রাথমিকভাবে এই বিপর্যয় ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বিপর্যয়ের আগেই সেই অর্থটা উৎপাদন বা পণ্যের চেয়েও ঋণের ওপর দাঁড়িয়েছিল।
ফলে এমন সব পদক্ষেপ নেওয়া হতে থাকল, যেটা স্বাভাবিক সময়ে কল্পনা করাটাও অসম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রে করের বোঝা কমানো হলো, ব্রিটেনে মিতব্যয়ী নীতি নেওয়া হলো, ফ্রান্সে অবসরকালীন ভাতা কাঁটছাট করা হলো। এই পদক্ষেপগুলো শেষ পর্যন্ত তথাকথিত জনতুষ্টিবাদী প্রতিক্রিয়া উসকে দিল। যেমন ২০১৬ সালে ট্রাম্প নির্বাচনে জিতলেন, যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিট হলো, ফ্রান্সে হলুদ জ্যাকেট আন্দোলন হলো। কিন্তু এই সংকট কোনো দেশ সমাধান করে ওঠার আগেই কোভিড মহামারি এসে উপস্থিত হলো। চারদিকে মন্দা সৃষ্টি হলো, শেয়ারবাজারের পতন হলো, মূল্যস্ফীতি বাড়ল। ক্রমাগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া শুল্কের রূপ নিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রেই এটা কাজ করবে কি না, সেটা অনিশ্চিত। এই শুল্ক মন্দা ডেকে আনতে পারে।…এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের মধ্যে ব্যবধান বাড়িয়ে দিতে পারে। …”


