৭ই আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া নতুন শুল্ক নীতির কারণে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নতুন নীতির ফলে ৯০টিরও বেশি দেশের পণ্যের উপর কর আরোপ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের গড় কার্যকর শুল্কহারকে ১৯৩৩ সালের পর সর্বোচ্চ ১৮.৬%-এ নিয়ে গেছে। ২০২৪ সালে এই হার ছিল মাত্র ২.৪%।
নতুন শুল্ক নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুনে শুল্ক রাজস্ব ছিল ২৮ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের মাসিক আয়ের তিনগুণ। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) অনুমান, এই শুল্ক নীতি ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সরকারি ঋণ ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে সিবিও সতর্ক করেছে যে এই নীতি অর্থনীতির আকার ছোট করবে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের করছাড়ের কারণে রাজস্ব ক্ষতি শুল্ক আয়ের চেয়ে বেশি হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল আমদানি কমানো এবং বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করা। তবে শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ পণ্য মজুদ করায় ২০২৫ সালের মার্চে বাণিজ্য ঘাটতি ১৬২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা একটি রেকর্ড। জুনে অবশ্য তা ৮৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এই শুল্ক নীতির ফলে বিশ্ব বাণিজ্যেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। চীন, যার পণ্যে এক সময় ১৪৫% শুল্ক ছিল, বর্তমানে তা কমে ৩০%-এ নেমে এসেছে। তবুও ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রফতানি ১১% কমেছে। অন্যদিকে ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য এবং আসিয়ান দেশগুলোতে চীনের রফতানি বেড়েছে। এর ফলে অন্যান্য দেশগুলো পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি করতে আগ্রহী হচ্ছে। যেমন, যুক্তরাজ্য ও ভারত নতুন চুক্তি করেছে এবং ইইউ ইন্দোনেশিয়ার সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে উচ্চ শুল্কের কারণে আমেরিকান ভোক্তাদের জন্য মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি ২.৭%-এ পৌঁছেছে, যা মে মাসের ২.৪% থেকে বেশি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইসিং ল্যাবের গবেষণায় দেখা গেছে, শুল্কের ফলে প্রভাবিত পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা ভোক্তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়াও সয়াবিন আমদানিতে চীন যুক্তরাষ্ট্রের বদলে ব্রাজিলের দিকে ঝুঁকছে, যা মার্কিন কৃষকদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই নতুন শুল্ক ব্যবস্থা একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব বাড়াচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতিপথ পরিবর্তন করছে এবং আমেরিকান ভোক্তাদের উপর মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করছে। এই নীতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।


