যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেক আলোচনার পর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে যাচ্ছেন ইউক্রেনকে। অবশ্য সরাসরি নয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিটি ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ওই ব্যবস্থা কিনবে ইউরোপ। এরপর সেগুলো ইউক্রেনকে দেওয়া হবে।
নতুন এই ব্যবস্থার ফলে একদিকে আর্থিকভাবে লাভবান হবে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইউক্রেনকে সরাসরি অস্ত্র সহায়তার সমালোচনাও আড়াল করতে পারবেন ট্রাম্প। এজন্যই তার সোমবারের ইউক্রেন সংক্রান্ত ঘোষণাকে কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে।
সোমবার ট্রাম্প রাশিয়াকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করার জন্য দুটি উদ্যোগ ঘোষণা করেন। এর মধ্যে রয়েছে কিয়েভে নতুন অস্ত্র পাঠানো এবং আগামী ৫০ দিনের মধ্যে শান্তি না এলে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি বিরক্তিও প্রকাশ করেন। কারণ তার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবগুলো মস্কো উপেক্ষা করেছে।
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, ট্রাম্প ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ বলতে বোঝাতে চেয়েছিলেন রাশিয়ার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক এবং সেইসব দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা যারা রাশিয়ার তেল কিনছে। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে খুব সামান্য বাণিজ্য করে। এই নিষেধাজ্ঞা ভারতের মতো দেশ ও চীনের ওপর পড়বে, যারা রাশিয়ার তেল কিনছে। এটি রুশ অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার মতে, ইউক্রেনকে নতুন অস্ত্র সরবরাহের এই উদ্যোগ মস্কোর প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে। এটি বোঝাবে, পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের বিরক্তি সত্যিই গভীর। কারণ গত সপ্তাহেই তিনি রুশ নেতার কর্মকাণ্ডকে “বাজে কথা” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
পাশাপাশি, ট্রাম্প এই উদ্যোগ থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক লাভের আশাও করছেন। কারণ একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমের দাম প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। তিনি ইতোমধ্যেই এই পরিকল্পনাকে যুক্তরাষ্ট্রের লাভজনক একটি স্কিম হিসেবে প্রচার করেছেন।


