কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত সর্বশেষ গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হামাস সম্মতি জানিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, অর্ধেক জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে ইসরায়েল এই প্রস্তাবের এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এ অবস্থায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন, তিনি অবিলম্বে সব জিম্মি মুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছেন।
নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং জিম্মি পরিবারের সদস্যরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে, নেতানিয়াহু তাদের প্রিয়জনদের বিসর্জন দিচ্ছেন। গত ১৮ মাস ধরে হামাস আংশিক বা ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি থাকলেও নেতানিয়াহু এখন কেবল সর্বাত্মক চুক্তি চাচ্ছেন, যার আওতায় সব জিম্মি মুক্তি পাবে এবং যুদ্ধ শেষ হবে। তবে এই চুক্তির শর্ত শুধুমাত্র ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন হবে। একই সঙ্গে তিনি গাজার সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাও এগিয়ে নিচ্ছেন।
গত বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু জানান, তিনি অবিলম্বে আলোচনায় বসে সব জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করতে আলোচনাকারী দলকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু হামাসের বর্তমান প্রস্তাবের উল্লেখ তিনি করেননি। একই সময়ে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) গাজা সিটিতে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সিনিয়র সদস্য বাসেম নাঈম বলেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তারা সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং এখনও দায়িত্বশীল ও খোলা মন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে চুক্তি কার্যকর না হওয়ায় তিনি নেতানিয়াহুকে অভিযুক্ত করেছেন এবং যুক্তি দেখিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সবুজ সংকেত নিয়ে এই নোংরা খেলা চালানো হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি প্রকাশ্যে ইসরায়েলের নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘হামাস আসলে কোনো চুক্তি চায় না। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ধ্বংস হওয়া। শুধুমাত্র হামাসকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিলে জিম্মিদের মুক্তি সম্ভব।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই নেতানিয়াহু তার কৌশল পরিবর্তন করে ‘সব অথবা কিছুই নয়’ নীতি গ্রহণ করেছেন।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বৈঠকে যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য পাঁচটি শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, সব জিম্মির মুক্তি, গাজার সামরিকীকরণ বন্ধ ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, নতুন বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা যা হামাস বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিরস্ত্রীকরণের শর্ত হামাস কখনো মানবে না। নেতানিয়াহুও জানেন এটি এবং এটি তার রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত রাখা এবং নিজের ক্ষমতা সংরক্ষণ করা।
নেতানিয়াহুর এই নীতি ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। জিম্মিদের পরিবারগুলো সরকারের বিরুদ্ধে তাদের প্রিয়জনদের বিসর্জন দেয়ার অভিযোগ তুলেছে। এ অবস্থায় ইসরায়েলে সর্ববৃহৎ যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতি গাজা সংকটকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এখনও চেষ্টা চালাচ্ছে কিভাবে সমঝোতার মাধ্যমে অস্থায়ী হলেও শান্তি প্রতিষ্ঠিত করা যায়।


