সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে লস্করে তাইয়েবার সহযোগী সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)। সংগঠনটি তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘মিথ্যা, প্রমাণ ছাড়া তড়িঘড়ি করে দায় চাপানো ও কাশ্মীরি প্রতিরোধকে হেয় করার জন্য সাজানো অভিযানের অংশ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। শনিবার (২৬ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে গোষ্ঠীটি দাবি করে, ঘটনার পরপরই তাদের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে অননুমোদিত বার্তা পোস্ট করা হয়েছিল। এই পোস্ট ছিল ‘সমন্বিত সাইবার আক্রমণের ফল, যা ভারতের ডিজিটাল যুদ্ধাস্ত্রের একটি পরিচিত কৌশল।’
এই পোস্টের ভিত্তিতেই বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর চালানো ভয়াবহ হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘কাশ্মীর রেজিস্ট্যান্স’ নামে পরিচিত ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)। ২০১৯ সালে আত্মপ্রকাশ করা এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার (LeT) একটি শাখা বা সহযোগী সংগঠন হিসেবে দাবি করেন ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এদিকে, গত ৫ দিনে পেহেলগাম হামলায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে না পারলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জম্মু-কাশ্মীরে তথাকথিত ১০ ‘সন্ত্রাসীর’ বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অথচ, এই তথাকথিত ১০ সন্ত্রাসী এই হামলায় জড়িত ছিল কিনা সে বিষয়ে কোনো তথ্যই দেয়নি ভারত সরকার।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এদের মধ্যে আহসান উল হক ২০১৮ সালে পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সম্প্রতি উপত্যকায় অনুপ্রবেশ করেন। শহীদ আহমেদ কুট্টে লস্কর-ই-তৈয়্যবার কমান্ডার। জাকির আহমেদ গনি একাধিক সন্ত্রাস-সম্পর্কিত কার্যকলাপে জড়িত সন্দেহে নজরদারিতে ছিলেন। ফারুক আহমেদ টেডওয়া পাকিস্তান থেকে কাজ করছেন। গত মঙ্গলবারের হামলায় থোকার সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘বাড়ি ভাঙচুর এবং তল্লাশির উদ্দেশ্য জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের জাল ছিন্ন করা।’


