মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই স্পর্শে সাড়া দেয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, শারীরিক সংযোগ বা স্পর্শের প্রয়োজন আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। টাচ স্টারভেশন কী ? টাচ স্টারভেশন (যাকে বলা হয় স্কিন হাঙ্গার বা স্পর্শ বঞ্চনা) তখনই ঘটে যখন কেউ দীর্ঘ সময় ধরে অন্য জীবিত প্রাণীর কাছ থেকে পর্যাপ্ত স্পর্শ পায় না। এটি বেশিরভাগ সময়েই নেতিবাচক আবেগ তৈরি করে যেমন: একাকিত্ব, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ ইত্যাদি। ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে বিভিন্ন দেশের মানুষের ছোঁয়া গ্রহণের মানসিকতায় পার্থক্য রয়েছে। ফিনল্যান্ড ও ফ্রান্স ছিল স্পর্শকে বেশি স্বাগত জানানো দেশের শীর্ষে, আর যুক্তরাজ্য ছিল নিচে।
শুধু যৌন স্পর্শেই কি টাচ স্টারভেশন হয়? না, একেবারেই নয়। যে কোনো ধরণের ইতিবাচক, কোমল স্পর্শ, যেমন হাত ধরা, আলতো করে পিঠে চাপড় দেওয়া, কাঁধে হাত রাখা—সবই উপকারী। শুধু রোমান্টিক বা যৌন স্পর্শ নয়, বন্ধুত্বপূর্ণ বা পারিবারিক স্পর্শও দারুণভাবে কাজে দেয়। শরীরে কীভাবে কাজ করে স্পর্শ? আমাদের ত্বকে রয়েছে C-tactile afferents নামক বিশেষ স্নায়ু, যেগুলো কোমল স্পর্শ চিনে নিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩ সেন্টিমিটার/সেকেন্ড গতির ছোঁয়া সবচেয়ে আরামদায়ক। এছাড়া স্পর্শ অক্সিটোসিন (ভালোবাসার হরমোন) নিঃসরণ ঘটায়। এই হরমোনের পাশাপাশি সেরোটোনিন (প্রাকৃতিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট) এবং ডোপামিন (আনন্দদায়ক নিউরোট্রান্সমিটার) স্পর্শের মাধ্যমে সক্রিয় হয়।
স্পর্শের অভাবে শরীর ও মন কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
- কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়
- ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়
- রক্তচাপ এবং হার্টবিট বেড়ে যেতে পারে
- মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ে
- ঘুমের সমস্যা, একাকিত্ব মানসিক অশান্তি দেখা দেয়
যাদের স্পর্শ পছন্দ নয়, তারাও কি টাচ স্টারভড হতে পারে? হ্যাঁ, হতে পারে। অনেকের জন্য স্পর্শের সাথে বিশ্বাস জড়িত থাকে। তারা ছোঁয়ার চেয়ে মানসিক সংযোগকে প্রাধান্য দেয়। নিউরোডাইভার্স ব্যক্তিরা বা যাঁরা এসেক্সচুয়াল, তাঁরাও ছোঁয়ার প্রতি অনাগ্রহী হতে পারেন, কিন্তু স্পর্শের উপকারিতা তারা হয়ত মিস করেন।
স্পর্শ বঞ্চনা স্থায়ী নয়।আপনি এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। যদি আপনি স্পর্শের সুযোগ পান: পরিবার বা প্রিয়জনের সঙ্গে কাছে বসুন, আলিঙ্গন করুন, পোষা প্রাণী লালন করুন, আশেপাশের মানুষকে দেখে হাসুন বা হাত নাড়ুন—মানবিক যোগাযোগ কিছু হলেও অনুভব করায় স্পর্শ শুধু শরীর নয়, মন ও আত্মার প্রয়োজন। আপনি যদি স্পর্শের অভাবে ভুগে থাকেন, তা স্বীকার করা লজ্জার নয়। এটি একটি মানবিক অনুভব। সময় ও সচেতন প্রচেষ্টায় আপনি নিজের প্রয়োজন পূরণ করতে পারবেন। হোক সেটা কারো বাহুতে, হোক নিজের যত্নে।


