“আওয়ামী আমলে হতো গায়েবি মামলা, এখন হচ্ছে ঢালাও মামলা। উদ্দ্যেশ্য একই — হয়রানি, নিপীড়ন, মামলা বাণিজ্য। সরকার বিভিন্ন সময় বলেছে এতে সরকারের দায় নাই, মানুষ মামলা করলে সরকার কি করবে! কিন্তু সরকার চাইলেই জুলাই হত্যাকান্ড নিয়ে ঢালাও মামলা বন্ধ করতে পারে। এজন্য জাস্ট একটা নির্বাহি আদেশ প্রযোজন। এই আদেশে সরকার থানায় থানায় জুলাই হত্যাকান্ড সম্পর্কিত মামলা গ্রহণ বন্ধ করে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে অভিযোগ জানানোর বিধান করে দিবে। তাতে এলাকার পাতি নেতাদের হাতে ঢালাও মামলার সুযোগ থাকবে না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কাছে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৩৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তদন্ত হয়েছে ৩৯টি বিষয়ে, যার মধ্যে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলা হয়েছে ২২টি। এখানে যদি ঢালাও মামলা দেওয়া হয় তার দায় সরকারের উপর বর্তাবে। সরকার বলতে পারবে না যে পাবলিক মামলা দিলে আমরা কি করব। সরকার ইতোমধ্যে আরো একটি ট্রাইবুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনে আরো ট্রাইবুনাল গঠন করুক, বাড়তি তদন্তকারী নিয়োগ দিক। কিন্তু জুলাই হত্যাকান্ড নিয়ে দুইটা প্যারালাল বিচার কার্যক্রম বন্ধ করুক। একদিকে থানায় থানায় ঢালাও মামলা, আরেকদিকে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে বিচার — দুটো একসাথে চলতে দেওয়ার কোন অর্থ হয় না।
জুলাই হত্যাকান্ডের বিচার পুরোপুরি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কর্তৃত্বে নিয়ে আসলে শুধু যে মামলা বাণিজই বন্ধ হবে, তা না; বিপুল সময় ও সম্পদের অপচয়ও বন্ধ হবে।”


