সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে দেশে মোট ৪২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৩৮০ জন। আহত হয়েছে আরও ৫৪২ জন। অন্যদিকে সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ৪৪৩টি দুর্ঘটনায় ৪১৮ জন নিহত এবং ৮৫৬ জন আহত হয়েছেন। দুই সংস্থার তথ্যের পার্থক্য কিছুটা হলেও সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে।
বিআরটিএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন বিভাগে দুর্ঘটনার ঘনত্ব ভিন্ন। ঢাকা বিভাগে জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে মোট ১১৩টি, যেখানে ১১৩ জন নিহত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ১০০টি দুর্ঘটনায় ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে ৪৯ দুর্ঘটনায় ৫৩ জন, খুলনা বিভাগে ৪৪ দুর্ঘটনায় ৪৩ জন, বরিশাল বিভাগে ২৫ দুর্ঘটনায় ১৪ জন, সিলেট বিভাগে ৩০ দুর্ঘটনায় ২৬ জন এবং রংপুর বিভাগে ৪৩ দুর্ঘটনায় ৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৩টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এই তথ্য দেখায়, সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যার সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা সরাসরি সম্পর্কিত না হলেও, দুর্ঘটনার ঘনত্ব প্রধান শহর এবং যানবাহনের চলাচলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী মৃত্যুর পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। জুলাই মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ৮৩ জন, যা মোট মৃত্যুর ২১.৮৪ শতাংশ। ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে ৪৮ জনের, বাস বা মিনিবাসে ৪৭ জনের, অটোরিকশায় ২৮ জনের। এছাড়া মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ১৯ জন, পিকআপে ১৮ জন, ভ্যানে ১৭ জন, ব্যাটারিচালিত রিকশায় ১৬ জন, ইজিবাইকে ১৫ জন এবং মোটরকার বা জিপ দুর্ঘটনায় ৩ জন মারা গেছেন। অন্যান্য হিসাবে চিহ্নিত দুর্ঘটনায় ৮৫ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ২২.৩৭ শতাংশ। এই তথ্য প্রমাণ করে, দুই বা তিন চাকার যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
বিআরটিএ জানিয়েছে, তারা দেশের সকল বিভাগীয় অফিসের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে। এই তথ্য শেয়ার করা মূল উদ্দেশ্য হলো, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা সড়ক নিরাপত্তা নীতি এবং সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারে। দুর্ঘটনার উচ্চ হার এবং মৃত্যুর সংখ্যা আমাদেরকে সতর্ক করে, সড়ক নিরাপত্তার জন্য অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
পরিসংখ্যান ও তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি, যা যানজট, যানবাহনের ঘনত্ব ও ট্রাফিক নিয়মের শৃঙ্খলা কম থাকার কারণে হতে পারে। এছাড়া মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষামূলক প্রচার, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


