পরিমিত বৃষ্টিপাতের কারণে জুলাই মাসে দেশে চা উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৭০টি বড় চা বাগান ও উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্রায়তন চা চাষের জমিতে জুলাইয়ে মোট ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৯ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। এটি গত বছরের একই সময়ের উৎপাদনের তুলনায় ২০ লাখ ৫৪ হাজার কেজি বেশি। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে উৎপাদন ছিল ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৫ হাজার কেজি।
চা বোর্ড আরও জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে উৎপাদন কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৮০ হাজার কেজি পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুন থেকে দেশে চায়ের ভরা মৌসুম শুরু হয় এবং বৃষ্টিপাতের সঠিক মাত্রা চায়ের উন্নত মান ও পরিমাণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চা খাতের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি চা বোর্ড ন্যূনতম নিলামমূল্য কিছুটা বৃদ্ধি করেছে। এতে বাগান কর্তৃপক্ষ চায়ের উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে। নিলামে সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে বাজারে চায়ের চাহিদা ও দাম উভয়ই ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম চা নিলামের তথ্য অনুযায়ী, বিক্রির জন্য প্রস্তাবিত চায়ের পরিমাণ ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৫৮ কেজি, যা গত বছরের একই নিলামের তুলনায় ২ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯১ কেজি বেশি। এর আগে ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত নিলামে ৩৩ লাখ ২৫ হাজার ৪৮৫ কেজি চা প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের একই সময়ে প্রস্তাবিত চায়ের পরিমাণ ছিল ৩৮ লাখ ২২ হাজার ৪৮৩ কেজি।
মূল্য বৃদ্ধির ফলে চা বিক্রির গড় দামও ভালো অবস্থানে রয়েছে। ১৫তম চট্টগ্রাম নিলামে চায়ের গড় দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৪৫ দশমিক ৫৮ টাকা, যেখানে ৭৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ চা ক্রেতাদের হাতে গেছে। ১৬তম নিলামে গড় দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ২৪৬ দশমিক ৬৬ টাকায় লেনদেন হয়েছে এবং প্রস্তাবিত চায়ের মধ্যে ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ বিক্রি হয়েছে।
বাগান মালিকরা জানাচ্ছেন, ন্যূনতম গড়মূল্য বৃদ্ধির কারণে তারা আগের তুলনায় বেশি লাভে চা বিক্রি করছেন। ২০২৩-২৪ নিলামবর্ষে প্রতি কেজি চায়ের গড়মূল্য ছিল ২০০ টাকা, যা ২০২৪-২৫ নিলামবর্ষে বেড়ে ২০৩ টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ২৪০ টাকার ওপরে লেনদেন হচ্ছে এবং খাত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন বার্ষিক গড় দাম আরও বাড়তে পারে।
ন্যাশনাল টি ব্রোকার্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক অঞ্জব দেব বর্মণ বলেন, “নিলামে চায়ের ভালো দাম পাচ্ছেন বাগান মালিকরা। মূল্যবৃদ্ধির কারণে জুলাই থেকে নিলামে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। কয়েক মাস আগে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন আশানুরূপ ছিল না। এখন বাজারের চাহিদা ও দাম দুটোই ভাল হওয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।”
সার্বিকভাবে দেশের চা খাত বর্তমানে উজ্জ্বল অবস্থায় রয়েছে। পরিমিত বৃষ্টিপাত, ন্যূনতম মূল্য বৃদ্ধি এবং বাজারে ক্রেতাদের ভালো চাহিদার কারণে উৎপাদন ও বিক্রির উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে।


