প্রশ্ন: “The Division Bell” আমার প্রিয় পিংক ফ্লয়েড অ্যালবাম এবং “High Hopes” গানটা ব্যান্ডটির জন্য একটা পরিসমাপ্তির মতো মনে হয়েছিল। তখন কি সত্যিই ব্যান্ড থেমে যাওয়ার কথা ছিল?
উত্তর: না, তেমন কোনো চিন্তা ছিল না। কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছিল না যে থেমে যেতে হবে। তবে জীবন যেমন চলে, কিছু জিনিস মাঝেমধ্যে পথে এসে পড়ে—তেমনি তখন কিছু ব্যস্ততা সামনে এসে পড়ে। আমরা আরেকটা অ্যালবাম বা ট্যুরে যেতে পারিনি। “High Hopes” অ্যালবামের জন্য দারুণ একটা সমাপ্তি, কিন্তু তা ব্যান্ডের শেষ নয়।
প্রশ্ন: সিড ব্যারেটের মেঝের কাঠগুলো নিলামে £২৮,০০০-র বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। আপনি কি আপনার অতীতের কোনো বস্তু ফেরত পেতে অনেক টাকা খরচ করতে রাজি?
উত্তর: না, তেমন কিছু নেই। পুরনো গাড়ি বা গিটারও না। তবে সিড আমাকে ৬৬ বা ৬৭ সালে একটা লাল চামড়ার জ্যাকেট দিয়েছিল ওটা পেলে ভালো লাগতো। আর আমার গোলাপি ভেলভেট প্যান্ট, যেটা কিনেছিলাম ‘Granny Takes a Trip’ দোকান থেকে। ওটা ১৯৬৯ সালে লন্ডনের এক লন্ড্রোম্যাট থেকে চুরি হয়ে যায়। যদিও এখন সেটা গায়েও উঠতো না!
প্রশ্ন: ইউকে’র গ্রাসরুট সংগীতকে সাহায্য করতে কনসার্ট টিকিটে একটা স্বেচ্ছা লেভি বসিয়ে তহবিল গঠন করার যে প্রস্তাব আছে, আপনি কী ভাবেন?
উত্তর: আমি একমত। এখনকার সংগীতশিল্পীদের জন্য সময়টা কঠিন। বড় বড় কোম্পানিগুলো বেশিরভাগ আয় নিয়ে নিচ্ছে। আগে শিল্পীরা বেশি লাভ পেত, এখন তা হয় না। এখনকার সংগীতশিল্পীদের বেঁচে থাকতে হলে লাইভ পারফর্ম করতে হয়, রেকর্ড করে আয় হয় না। এটা খুব দুঃখজনক। এ যুগটা খুব দয়ালু নয়। সবকিছু রোবট আর AI-এর হাতে যাচ্ছে, আর ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে।
প্রশ্ন: “Comfortably Numb”-এর গিটার সলো আপনাকে কী বোঝায়? এটা কি কিছু বলছে?
উত্তর: আমি যে সঙ্গীতটুকু লিখেছি, তার ওপরে সলো বাজানোটা খুবই আনন্দের। প্রতিবার বাজানোর সময় সেটার মানে বদলায়।
প্রশ্ন: আধুনিক গানে গিটার সলো দেখা যায় না। এটা কি এখন পুরনো কালের ব্যাপার?
উত্তর: সময়ের চক্রে এমন হয়। আমি এখনও সলো বাজাচ্ছি। আশা করি, আবার ফিরে আসবে। সংগীতে কিছু সময়ের বিরতি অনেক মূল্যবান।
প্রশ্ন: টেলিকাস্টার নাকি স্ট্র্যাটোকাস্টার কোনটা পছন্দ?
উত্তর: গান অনুযায়ী গিটার ঠিক করি। দুটোই ভালোবাসি।
প্রশ্ন: রজার ওয়াটারসের সঙ্গে আবার কখনো মঞ্চে উঠবেন?
উত্তর: একেবারেই না। আমি এমন লোকদের এড়িয়ে চলি যারা পুতিন বা মাদুরো’র মতো স্বৈরশাসক ও নারী-এলজিবিটি নিপীড়কদের সমর্থন করে। রিক রাইটের সঙ্গে মঞ্চে ফিরে যেতে পারলে ভালো লাগত, সে ছিল দারুণ সঙ্গীতপ্রতিভাধর এবং শান্ত মানুষ।
প্রশ্ন: কেট বুশকে কি আবার মঞ্চে আনা সম্ভব?
উত্তর: কেট বুশ নিজে চাইলে তবেই সম্ভব। ২০১৪ সালের তার কনসার্টগুলো অসাধারণ ছিল। আমরা অনেক রাতে গিয়েছিলাম। আমি ওকে আবার জেন্টলি বোঝানোর চেষ্টা করেছি।
প্রশ্ন: আপনার নতুন অ্যালবামে ‘mortality’ (মরণশীলতা) নিয়ে ভাবনা এসেছে। আপনি কীভাবে দেখেন মৃত্যুকে?
উত্তর: আমি কোনো পরকাল বা উচ্চতর শক্তিতে বিশ্বাস করি না, এটা দুঃখজনক। “A Single Spark” গানটা মূলত আমার অনুভূতির প্রকাশ। নাবোকভের “Speak, Memory”-এর একটি লাইন থেকে অনুপ্রাণিত। তিনি বলেছিলেন, জীবন দুই অনন্তের মাঝের একটা ক্ষণিকের স্পার্ক মাত্র।
প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন সংগীত শুধু মানুষের বুদ্ধি থেকে আসে, নাকি কোনো উচ্চতর উৎস থেকেও আসে?
উত্তর: আমি নাস্তিক, কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় সংগীত যেন নিজেরাই আমার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে—যেন আমি নিজে করিনি।
প্রশ্ন: একজন গিটারবাদী হিসেবে সলো বাজানোর কৌশল বাড়াতে কী পরামর্শ দেবেন?
উত্তর: কৌশল ভুলে যাও! শুধু এমন সুর বাজাও যেটা তোমার হৃদয় ও মনকে ছুঁয়ে যায়।
প্রশ্ন: রজার ওয়াটারসের লেখা সেরা কোনো গানের কথা মনে পড়ে?
উত্তর: ভাবি দেখি… “Walk With Me Sydney”?
প্রশ্ন: বর্তমান সঙ্গীতের অবস্থা কেমন মনে হয়? কোনো ব্যান্ড আছে যাদের গান আপনাকে অনুপ্রাণিত করে?
উত্তর: আমি খুব বেশি আধুনিক গান শুনি না। তবে Alt-J ব্যান্ডের গান শুনে ভালো লেগেছে। ওদের প্রযোজক Charlie Andrew-এর কাজ দারুণ লেগেছে, সেই কারণেই ওকে আমার অ্যালবামে নিয়েছি। ও আমার অতীতকে পাত্তা না দিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে এটা খুব দরকারি।
প্রশ্ন: ২০১৯ সালে আপনি যে গিটার ও অ্যাম্প বিক্রি করেছিলেন, সেগুলো কি মিস করেন?
উত্তর: সত্যি বলতে, কয়েকটা প্রিয় গিটার রেখে দিয়েছি। গিটার আমার কাছে কেবল কাজের যন্ত্র। অতিরিক্ত আবেগ নেই। যেটা বড় কথা, ওই বিক্রির টাকাগুলো ClientEarth-এ দিয়ে ভালো কাজে লাগছে এটাই শান্তি দেয়।
প্রশ্ন: আপনি কি মহাকাশে যেতে চান?
উত্তর: আমাকে একবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমরা মস্কোতে পারফর্ম করার পর। কিন্তু ওদের রকেট আর ক্যাপসুল দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, “না ভাই, ধন্যবাদ।” সব কিছু এত দুর্বল, নাট-বল্টু দিয়ে ঠেসে রাখা!
প্রশ্ন: মনটা শান্ত করতে চাইলে আপনি কাদের গান শোনেন?
উত্তর: এখন অনেক সময় আমি গান না শুনে অডিওবুক শুনি। যেমন—Hitler, Stalin, Mum and Dad – ড্যানিয়েল ফিঙ্কেলস্টাইন, The Escape Artist, Inside Story – মার্টিন এমিস। এমিসের বইটা দারুণ, মৃত্যুর আগে নিজের সব চিন্তা একসাথে রেখেছেন।
প্রশ্ন: আপনি এমন কিছু অ্যালবামের অংশ হয়েছেন যা ইতিহাসের সেরা। এটা কি চাপ দেয় নাকি অনুপ্রেরণা?
উত্তর: বেশিরভাগ সময়েই অনুপ্রেরণা দেয়। যেমন নতুন অ্যালবাম শেষ করে স্টুডিওতে বসে শুনছিলাম ঠিক সেই অনুভূতিই হচ্ছিল, যেটা হয়েছিল ১৯৭৩ সালে Abbey Road-এ “The Dark Side of the Moon” শুনে। একইরকম উত্তেজনা।
প্রশ্ন: আপনার সংগীত জীবনে আর কী স্বপ্ন আছে?
উত্তর: আমার স্বপ্ন হলো চালিয়ে যাওয়া। এই ট্যুর শেষ হলে আবার স্টুডিওতে ঢুকব নতুন গান তৈরি করতে। এর চেয়ে বেশি কিছু চাই না।
– Christopher Lord,
(Freelance journalist, Writer, specialising in rock music)


