জার্মানিতে পার্লামেন্টের ২১তম নির্বাচন হবে রোববার। প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষের দেশ জার্মানিতে এ বছর মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৯২ লাখ। এবারের নির্বাচনে জার্মান পার্লামেন্টে ৬৩০টি আসনের জন্য ২৯টি দল মোট ৪ হাজার ৫০৬ জন প্রার্থী দিয়েছে। রোববারের এ ভোটের দিকে পুরো ইউরোপও আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশের এবারের নির্বাচনে অভিবাসনবিরোধী কট্টর জাতীয়তাবাদী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) ভোট ও আসন বাড়তে পারে বলে বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন। দলটি এবার ২০ শতাংশের বেশি ভোট পেলে পার্লামেন্টে তাদের আসন দেড়শতে পৌঁছাতে পারে। তেমনটা হলে এএফডি সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে জার্মানির নানান নীতিতে তাদের প্রাধান্য দেখা যেতে পারে।
দলটির নেতা অ্যালিস ওয়েইডেল তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব। টিকটকে তার রয়েছে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ফলোয়ার, যা তাকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে রেখেছে। ইলন মাস্ক ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ওয়েইডেলকে সমর্থন করছেন। কট্টর ডানপন্থি এ দল জার্মানির সীমান্ত সুরক্ষিত করা এবং অবৈধ অভিবাসী ও অপরাধীদের বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে হাতিয়ার করে নাৎসীদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সমঝোতা হয়েছিল যে-রাজনৈতিক দলগুলো কেউ অতি ডানপন্থীদের সাথে সমন্বয় করবে না। সেই ঐতিহ্য অনুসারে মূলধারার প্রায় সব দলই এএফডির সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও রোববারের ভোটে কোনো একক দলের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নির্বাচনের আগে থেকেই জার্মানিজুড়ে কট্টর রক্ষণশীল অভিবাসীবিরোধী অল্টানেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড দলটির বিরুদ্ধে জার্মানির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা জার্মানির গণতান্ত্রিক দলগুলোকে নব্য নাৎসিদের দল অল্টারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ডের সঙ্গে সহযোগিতা বা জোট গঠন না করতে আহ্বান জানিয়েছে।সর্বশেষ নানা জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রথমে রয়েছে রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাট পার্টি (সিডিইউ), তারপর রয়েছে কট্টরবাদী জার্মানির জন্য বিকল্প দলটি, এরপর রয়েছে বর্তমানের ক্ষমতাসীন জোট সরকারের বড় দল মধ্য বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) এবং চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে পরিবেশবাদী সবুজ দল।এবারের নির্বাচনে কট্টর বামপন্থিদের ভোটও বাড়বে বলে অনেকে ধারণা করছেন।
ইইউর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ও সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশে নির্বাচনের প্রচারে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা যেমন গুরুত্ব পাচ্ছে, তেমনি অভিবাসন ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গও জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে। গত বছরের মে মাস থেকে জার্মানির ম্যানহেইম, সোলিনজেন, ম্যাগডেবার্গ, আসচাফেনবার্গ ও মিউনিখে একের পর এক প্রাণঘাতি হামলা হয়েছে। এসব হামলায় জড়িত সন্দেহে যাদের নাম আলোচনায় এসেছে তারা সবাই অভিবাসী। যে কারণে অভিবাসন বিরোধিতার ঢেউ দেশটির প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে গেছে।এএফডি বা রক্ষণশীলরা ক্ষমতায় এলে জার্মানিতে অভিবাসীদের ওপর দমনপীড়ন নেমে আসতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করছেন।


