জামায়াতের কৌশল পরিবর্তন ? প্রকাশ্য কর্মসূচিতে , নারী নেতাকর্মী

জামায়াতে ইসলামীর নারী নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমের মধ্যে এতদিন সীমাবদ্ধ ছিলেন। সম্প্রতি রাজপথে ধর্ষণবিরোধী কর্মসূচিতে ও কূটনৈতিক বৈঠকে তাদের প্রকাশ্যে উপস্থিতি দেখা গেছে। একে জামায়াতের উদারীকরণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের অবস্থান এতদিন নারীর পক্ষে ছিল না। ভোটারের অর্ধেক যেহেতু নারী, তাই এটা তাদের নির্বাচনী কৌশল হতে পারে। যদিও জামায়াত নেতারা বলছেন, নীতি-আদর্শে বদল আসেনি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের পতনে নিরাপদ পরিবেশে নারী নেতাকর্মীরা ইসলামের বিধিবিধান ও পর্দা মেনে রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও প্রকাশ্য হয়েছেন। সাংগঠনিক, ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে।

জামায়াতের একাধিক নেতা সমকালকে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর প্রধান জিজ্ঞাসা, নারীর প্রতি জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি কী? নারীদের কার্যক্রম প্রকাশ্যে আসায়, তা স্পষ্ট হয়েছে। তবে এক নেতা বলেন, শুধু কূটনৈতিকদের প্রশ্নে নয়, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের প্রয়োজনেই দলীয় সিদ্ধান্তে নারী নেতাকর্মীর কার্যক্রম প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। যদিও নেতাদের একাংশ এর পক্ষে ছিলেন না। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নেওয়া সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নিয়েছেন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, ধর্ষণ-নিপীড়নবিরোধী কর্মসূচি যতটা না রাজনৈতিক, তার চেয়ে বেশি সামাজিক। সামাজিক কার্যক্রম মহিলা জামায়াতের নিয়মিত কাজের অংশ।

জামায়াতের মহিলা বিভাগ এলাকাভিত্তিক নিজস্ব কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম চালায়। মহিলা বিভাগ গ্রাম-শহরনির্বিশেষে ঘরে ঘরে দাওয়াতি কাজ করে। ‘প্রোগ্রাম’, ‘তালিম’ নামে পরিচিত ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে কোরআন-হাদিস শিক্ষার পাশাপাশি জামায়াতের সহযোগী সদস্য, কর্মী হিসেবে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উপজেলা, জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে মহিলা বিভাগের রোকন (সদস্য) এবং নারী নেতারা ভোটদানের অধিকারী। জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ৩৮২ সদস্যের প্রায় ৪০ শতাংশ নারী। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সক্রিয় ৫২ সদস্যের প্রায় ৪০ শতাংশ নারী। যদিও সর্বোচ্চ ফোরাম ২১ সদস্যের নির্বাহী পরিষদে একজন নারীও নেই।

জামায়াতের এক নেতা সমকালকে ধারণা দিয়েছেন, কওমি ধারার ইসলামিক দলগুলোর সঙ্গে আগামী নির্বাচনে জোট কিংবা সমঝোতার কথা চলছে। এসব দল নারী নেতৃত্বের ব্যাপারে রক্ষণশীল। নারী নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে আনার বিষয়টি বেশি আলোচিত হলে কওমি ধারার দলগুলোর আপত্তিতে নির্বাচনে জোট বা সমঝোতার চেষ্টা বিঘ্নিত হতে পারে। সাধারণ শিক্ষাগ্রহণ, নারীকে বাইরের কাজের অধিকারকে সমর্থন, নারী নেতৃত্ব রয়েছে – এমন দলের সঙ্গে জোটের কারণে রক্ষণশীল এই দলগুলোর অনেকে এমনিতেই জামায়াতকে ইসলামিক দল হিসেবে মানতে চান না। জামায়াতের এক নেতা বলেন, শুধু ভোটে জিততে জামায়াত নারীর প্রতি উদার হচ্ছে, অন্যান্য ইসলামী দলের মতো নারীর প্রতি জামায়াতের দৃষ্টিভঙ্গি কঠোর নয় এমন ধারণা ছড়ালে ক্ষতি হবে। আবার জামায়াত নারীর প্রতি উদার নয়– এ ধারণাও ক্ষতিকর। তাই সব দিক বিবেচনায় এগোতে হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন