কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। গত এক বছরে সেখানে সশস্ত্র দলগুলোর সদস্য সংগ্রহ এবং সহিংসতা- দুটোই বেড়েছে। হাজারো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে গেছেন যুদ্ধে যোগ দিতে। ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অবগত অন্তত চারজনের বক্তব্য এবং দুটি ত্রাণ সংস্থার অভ্যান্তরীণ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জেনেছে রয়টার্স। মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিদ্রোহ ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর আরও জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান এই জটিল সংঘাতে এখন রোহিঙ্গা যোদ্ধারাও যুক্ত হচ্ছেন।
রোহিঙ্গাদের অনেকে আবার সেই সব গোষ্ঠীর হয়ে লড়াইয়ে যোগ দিচ্ছেন, তাদের নির্যাতনকারী জান্তাবাহিনীর সঙ্গে যাদের যোগাযোগ আছে। তারা লড়াই করছেন রাখাইন রাজ্যের বিদ্রোহী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরগুলো থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার যোদ্ধা সংগ্রহ করেছে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া, রোহিঙ্গাদের যুদ্ধে নামাতে জান্তা বাহিনীর অর্থ এবং নাগরিকত্বের প্রলোভন এবং এসব বিষয়ে বাংলাদেশি কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়টার্স পেয়েছে।
রাখাইনের মংডু এলাকার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়ছে জান্তা বাহিনী। মূলত বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাখাইন সম্প্রদায় আরাকান আর্মিকে সমর্থন দিচ্ছে। মিয়ানমারে টিকে থাকা রোহিঙ্গাদের অন্যতম বড় বসতি পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য যে আরাকান আর্মি দায়ী, আর তাদের সঙ্গে লড়ার বিষয়ে আরএসও যে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে, চলতি বছর রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সেই বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছিল।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং অর্থ যুগিয়েছে। জান্তা বাহিনী এর বিনিময়ে মিয়ানমারের নাগরিকত্বের নথিপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাদের।
মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে প্রায় দুই হাজার রোহিঙ্গাকে ‘নাগরিকত্ব ও আর্থিক প্রলোভন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, হুমকি ও জবরদস্তি’ করে জান্তার হয়ে যুদ্ধ করার জন্য দলে টানার তথ্য একটি ত্রাণ সংস্থার জুন মাসের ব্রিফিংয়ে রয়টার্স দেখেছে। একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, সশস্ত্র সংগ্রামই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার একমাত্র উপায় বলে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করেন। তারা এও মনে করেন, বাংলাদেশ কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সমর্থন দিলে তাতে মিয়ানমারের সঙ্গে দর কষাকষির জায়গা আরো বাড়বে।


