জাতীয় ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় দেশের টেকসই উন্নয়ন সংকটে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আব্দুর রহমান খান এফসিএমএ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করতে রাজস্ব আয় বাড়ানো অপরিহার্য।
শনিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীতে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬ এর বাজেট পরবর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, দেশের মোট জিডিপির ১৩ শতাংশ বাজেট করা হলেও বাস্তবে রাজস্ব আদায় মাত্র ৮ শতাংশই হচ্ছে। ফলে বাকী ৫ শতাংশ ঘাটতি ঋণ নিয়ে পূরণ করতে হচ্ছে যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক অস্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং ঋণ পরিশোধে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।
মো. আব্দুর রহমান খান এফসিএমএ বলেন, করদাতাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা চলছে। এরই অংশ হিসেবে এ বছর নট ফর প্রফিট সংস্থা ও কিছু সরকারি সংস্থাকে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া রিটার্ন জমার সময়সীমা ৩০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে অতিরিক্ত ৯০ দিনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র কর হার কমানো কর আদায় বাড়াতে পারবে না; করদাতাদের মানসিকতা পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি দেশের ভ্যাট ব্যবস্থার দুর্বলতাও তুলে ধরেন। বর্তমানে দেশে মাত্র ৬ লাখ নিবন্ধিত ভ্যাটদাতা রয়েছে যা খুবই কম। কর ও ভ্যাট ক্ষেত্রে নন-কমপ্লায়েন্টের সংখ্যা বেশি থাকায় কমপ্লায়েন্টদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থায় অটোমেশন, ডিজিটালাইজেশন এবং সুশাসন নিশ্চিত করার গুরুত্ব তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ কে এম বাদিউল আলম (সদস্য, করনীতি) ও মো. আজিজুর রহমান (সদস্য, ভ্যাটনীতি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে। তারা বাজেটের কর ও ভ্যাট নীতিমালা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে মতামত প্রদান করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মো. মাহতাব উদ্দিন আহমেদ এফসিএমএ, প্রেসিডেন্ট, আইসিএমএবি, যিনি বাজেট বাস্তবায়নে এনবিআর ও আইসিএমএবির পেশাগত সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।


