জেনেভা থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার তুর্কের প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোেগ আরও জোরালো হয়েছে। সরকারের কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রতিবেদনটি শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি আনার জন্য শক্তিশালী সমর্থন হিসেবে কাজ করবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে বাংলাদেশে সুপরিকল্পিতভাবে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটানো হয়েছে।এতে ১,৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ এবং ১২-১৩ শতাংশ নিহত ব্যক্তিরা শিশু ছিল।গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১,৭০২ জনকে। এসব ঘটনার সঙ্গে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পরদিন বিএনপি দলটি ৮৪৮ নেতাকর্মী হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছে। মামলার আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, তার সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামও আনা হয়েছে। সরকারের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই প্রতিবেদনটি শেখ হাসিনাকে ভারতে ফেরত পাঠানোর অনুরোধের পক্ষে শক্ত সমর্থন হিসেবে কাজ করবে। আশা করা যাচ্ছে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক আদালতে শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কিছু মহল দাবি করলেও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ না করার সুপারিশ করা হয়েছে। বিএনপি এই বিষয় নিয়ে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হলেও সরকার আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ব্যবহারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে জোরালো প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে।


