ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী সরকারের নৃশংসতা বিষয়ে এক মাস তদন্ত করবে জাতিসংঘের আট সদস্যের তথ্যানুসন্ধান দল। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহর ঘুরে সহিংসতার শিকার ব্যক্তি, ভুক্তভোগীদের স্বজন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
নৃশংসতার তদন্তের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও বেসরকারি পক্ষগুলোর যুক্ততার যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা আমলে নেওয়া হবে। তদন্তে ১৫ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক ও বেসরকারি পক্ষগুলোর মাধ্যমে হত্যা ও নির্যাতন, জনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার নামে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, নির্বতনমূলক আটক ও গ্রেপ্তার, গুম, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ইত্যাদি।
প্রধান উপদেস্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুরোধে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক তাঁর নিজস্ব এখতিয়ারে তথ্যানুসন্ধান দল পাঠিয়েছেন। ড. ইউনূস ২৫ আগস্ট ফলকার টুর্ককে লেখা চিঠিতে দ্রুততম সময়ে তদন্ত শুরুর জন্য অনুরোধ করেছিলেন।জাতিসংঘের তদন্ত দল সরকারি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করবে। তদন্তের স্বার্থে প্রতিনিধিদল ছাত্র আন্দোলনের নেতা, বেসরকারি সাহায্য সংস্থার প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবে। এর পাশাপাশি তারা সহিংসতার শিকার ব্যক্তি, ঘটনার সাক্ষী এবং তথ্য বিশ্লেষণের স্বার্থে অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নেবে।
তথ্যানুসন্ধান দলটি জুলাই ও আগস্টের শুরুর দিকে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ ১৫ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করবে। তদন্ত প্রতিবেদন আগামী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হতে পারে। জাতিসংঘের তদন্ত দলের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে জাতিসংঘের একটি সূত্র জানিয়েছে, নৃশংসতার অভিযোগের বিষয়ে শুধু প্রাথমিক সূত্রের ওপর নির্ভরশীল থাকা হবে না। এর পাশাপাশি মেডিকেল রেকর্ড, সুরতহাল প্রতিবেদন, অপ্রকাশিত ভিডিও, ছবি, বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল উপকরণকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে।


