নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যালার্জির মৌসুম দীর্ঘতর এবং তীব্র হয়ে উঠেছে ও লক্ষ লক্ষ মানুষকে শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা ও অন্যান্য অ্যালার্জিক উপসর্গে ভুগাচ্ছে।
এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পোলেনের পরিমাণ ও মৌসুমের সময়কাল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বসন্ত ও শরৎকালে পোলেনের উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক বেশি হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে গাছপালা দীর্ঘ সময় পোলেন ছড়াচ্ছে এবং বাতাসে পোলেনের ঘনত্বও বেড়ে গেছে। এর ফলে অ্যালার্জির উপসর্গ যেমন নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং চোখে জ্বালা আরও তীব্র হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অ্যালার্জির কারণে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসার সংখ্যা গত কয়েক বছরে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা এই পরিবর্তনের কারণে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্জির মৌসুমের সময়কাল বাড়ার ফলে আগামী দিনে এই সমস্যা আরও জটিল রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা বৃদ্ধিও পোলেনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়, যা অ্যালার্জির উপসর্গকে তীব্র করে। এছাড়া বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়ার ফলে পোলেন আরও ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, যা শ্বাসনালীতে জ্বালা ও প্রদাহ সৃষ্টি করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্বন নির্গমন কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে অ্যালার্জি রোগীদের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য দেশেও অ্যালার্জির মৌসুমে পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও এই সমস্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই গবেষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তাই দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ ছাড়া ভবিষ্যতে অ্যালার্জি ও অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।


