ইউরোপিয়ান এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি (EEA)-এর সর্বশেষ “Europe’s Environment 2025” রিপোর্টে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত অবনতির কারণে ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক শক্তি হুমকির মুখে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইউরোপে বনজঙ্গল ও বাসস্থানগুলোর ৮০% খারাপ বা অতি খারাপ অবস্থায় রয়েছে। বায়োডাইভার্সিটি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষত পানির সংকট ও পরিবেশগত দূষণ আগামী কয়েক বছরে আরও গুরুতর আকার নেবে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
বর্তমানে কিছু সদস্য রাষ্ট্র অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিবেশবান্ধব নীতির বাস্তবায়ন বিলম্বিত করছে। ফলে ২০৩০ সালের জন্য নির্ধারিত ২২টি পরিবেশগত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও ওজোন-বিধ্বংসী পদার্থ—পূরণে রয়েছে। বাকি লক্ষ্যগুলোর অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। বিশেষ করে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা দেখা যাচ্ছে।
ইইএ-এর নির্বাহী পরিচালক লীনা ইলা-মোনোনেন বলেছেন, “পরিবেশগত অবনতি ইউরোপের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা ও জীবনযাত্রার মানকে হুমকির মুখে ফেলছে।” তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু লক্ষ্য পূরণে বিলম্ব করলে খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং বৈষম্য আরও বাড়বে।” ইইএ-এর কর্মকর্তারা পরিবেশবান্ধব নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
ইউরোপে বায়ু মানের উন্নতি হয়েছে, যার ফলে ২০০৫ সাল থেকে দূষণের কারণে অকাল মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে সাসটেইনেবল কনজাম্পশন ও সার্কুলার ইকোনমি বাস্তবায়নে আরও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ইইএ-এর কর্মকর্তারা বলছেন, “আমাদের কনজাম্পশন লেভেল অত্যন্ত উচ্চ, যা পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে।”
ইউরোপের পরিবেশগত অবস্থা উন্নত করতে হলে, পরিবেশবান্ধব নীতির বাস্তবায়ন ও নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। সরকার, শিল্প ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা সম্ভব। ইইএ-এর রিপোর্ট আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে পরিবেশগত অবনতি রোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে।


