জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জাতিসংঘের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্বাস্তু হওয়া মানুষের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী। পরিবারের সদস্যদের যত্ন ও খাদ্য সংস্থানের দায়িত্ব নারীদের ওপর বেশি হওয়ায়, বন্যা ও খরার মতো দুর্যোগে তারা অধিক সংকটে পড়েন। এটি শুধুমাত্র প্রান্তিক এলাকার সমস্যা নয়, সারা বিশ্বেই নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম ক্ষমতা ভোগ করেন এবং বেশি দারিদ্র্যের সম্মুখীন হন। চাকরি, আশ্রয় বা অবকাঠামোর অভাব দুর্যোগের সময় তাদের আরও বিপদে ফেলে।
অক্সফামের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৪ সালের সুনামির পর তিনজন পুরুষের বিপরীতে একজন নারী রক্ষা পেয়েছেন। সারা বিশ্বেই একই ধরনের উদাহরণ দেখা গেছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নারীদের । অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ বিজ্ঞানী ডায়ানা লিভারম্যান বলেন, “বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী।তাই এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ যাতে সব বড় সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণ থাকে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ক্ষমতার কোনো লড়াই নয়, এটি টিকে থাকার লড়াই।”
বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষভাবে দৃশ্যমান। উপকূলীয় এলাকায় নারীরা ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও লবণাক্ততার কারণে জীবিকা হারাচ্ছেন। এতে তাদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নারীদের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। সার্বিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নারীদের সমান অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা জলবায়ু সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


