অনেকেই সাস্টেইনেইবল বা টেকসই ভাবে বাঁচতে চান, যেখানে দৈনন্দিন জীবনের সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং পরিবেশের উপর ন্যূনতম নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাহলে আরও টেকসইভাবে বাঁচতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়? দৈনন্দিন জীবনে ব্যক্তিগত লক্ষ্য নির্ধারণ করলে পরিবর্তনে অনেক অবদান রাখার অনুপ্রেরণা পাওয়া সহজ হয়! জাতিসংঘের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভোক্তা ও উৎপাদনের মধ্যে দায়িত্বশীল সম্পর্ক নিশ্চিত করা।
আমরা সাধারণত সামাজিক ও পরিবেশগত টেকসইতার মধ্যে পার্থক্য করলে দেখতে পাই, সামাজিক টেকসইতা মূলত দুর্দশা, অবিচার ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে গঠিত। পরিবেশগত টেকসইতা হল পরিবেশগত সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করা, যা প্রাণী, বাস্তুতন্ত্র এবং প্রকৃতিকে প্রভাবিত করে। আর ব্যক্তিগত পর্যায়ে টেকসই জীবনধারা মানে এমনভাবে জীবনযাপন করা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের ক্ষমতা সংকুচিত না হয়।
১.খাবার গ্রহণ করুন
সাস্টেইনেইবল খাদ্য বলতে সাধারণত এমন খাদ্যের ধারণা যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাবারের সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষমতা ব্যাহত না করে উৎপাদিত হয়। এটি অর্জন করা যেতে পারে এমন উৎপাদন পদ্ধতির মাধ্যমে, যা সর্বনিম্ন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন নিশ্চিত করে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন ও পরিবহনের মাধ্যমে, পানি ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়ে, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ব্যবহার করে, জৈবিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে এমন জৈব উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে। আপনি যদি জৈব খাদ্য কেনেন, তাহলে এটি টেকসই খাদ্য উৎপাদনকে সমর্থন করবে। আরও একটি ভালো অভ্যাস হলো খাবার নষ্ট না করা। মনে রাখবেন, অনেক খাবার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও খাওয়ার উপযোগী থাকে, যেমন ডিম ও শুকনো পাউডারজাতীয় খাবার দাবার। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাবার কেনা বা নিজেই খাদ্য উৎপাদন করা একটি টেকসই পন্থা হতে পারে।
২. পরিবেশবান্ধব উপায়ে ভ্রমণ করুন
পরিবেশবান্ধব ভ্রমণের জন্য আপনি যা করতে পারেন— হাঁটা বা সাইকেল চালানো, কম জ্বালানি খরচ করে এমন যানবাহন ব্যবহার করা, জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহার করা।
৩. ডিজিটাল টেকসইতায় অবদান রাখুন
ডিজিটাল টেকসইতায় আপনার ভূমিকা থাকতে পারে। যেমন— প্রতিদিন মাত্র ৫টি ইমেইল মুছে ফেলার মাধ্যমে নরওয়েতে ১,০০০টি পরিবারের বিদ্যুৎ খরচের সমান শক্তি সংরক্ষণ করা সম্ভব। কারণ ইমেইলগুলো বিশ্বব্যাপী বিশাল সার্ভারগুলোতে সংরক্ষিত হয় এবং অতিরিক্ত স্টোরেজ স্পেস বেশি শক্তি ব্যয় করে। সুতরাং অপ্রয়োজনীয় ইমেইল মুছে ফেলা শক্তি সংরক্ষণের একটি সহজ উপায় হতে পারে।
৪. ভাগাভাগি ও পুনর্ব্যবহার করুন
অতিরিক্ত পোশাক, ইলেকট্রনিকস বা অন্যান্য পণ্য কেনা সাধারণত সাস্টেইনেইবল নয়। এগুলোর উৎপাদনে প্রচুর সম্পদ ব্যবহৃত হয় এবং প্রায়ই এটি দীর্ঘ দূরত্ব পরিবহনের মাধ্যমে আমাদের কাছে আসে। পুরাতন বা ব্যবহৃত জিনিস কেনার মাধ্যমে উৎপাদনের চাপ কমানো যায়। পুনর্ব্যবহার কেবল স্মার্টই নয়, বরং এটি এখন একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ডও। পুনর্ব্যবহারযোগ্য পোশাক, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য জিনিস কেনার জন্য অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। আপনাকে সবকিছু কিনতেই হবে এমন নয়! ভাগাভাগির অর্থনীতি (Sharing Economy) হলো স্মার্ট ধারণা, যেখানে ব্যক্তি বা কোম্পানিগুলো একে অপরের সাথে পণ্য বিনিময় বা ভাগাভাগি করতে পারে।
৫. অন্যদের আরও সাস্টেইনেইবল জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করুন
আরেকটি সাস্টেইনেইবল লক্ষ্য হতে পারে অন্যদের সচেতন করা। সহকর্মীদের একসাথে গাড়ি ব্যবহার বা সাইকেলে যাতায়াতের জন্য উৎসাহিত করুন। আরও ডিজিটাল মিটিংয়ের প্রস্তাব দিন, যাতে যাতায়াত কম হয়। আপনার নিজস্ব টেকসই অভ্যাসগুলো অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারে। এই সচেতনতা চেইন রিঅ্যাকশনের মতো কাজ করতে পারে। যত বেশি মানুষ টেকসই জীবনধারা গ্রহণ করবে, তত বেশি প্রভাব পড়বে। একজন নাগরিক হিসেবে আপনি দৈনন্দিন জীবনে টেকসই লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করেও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও আমাদের পৃথিবীর উপর বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব।


