‘শুধুমাত্র কিছু কৌতুক দিয়েই চাইলে দর্শনের একটা গভীর এবং ভাল কাজ লিখে ফেলা সম্ভব ‘। লুডভিগ ভিটগেনস্টাইন। অনেকের ধারণা দার্শনিকরা বহু বছর আগেই অক্কা পেয়েছেন। দর্শনের ইতিহাস নিয়ে পড়তে গেলে প্রাচীন গ্রিক দর্শনেই আমরা আটকে যাই। জিন্দা দার্শনিকদের কাজ-কাম অনেকেরেই অজানা। কিন্তু Slavoj Žižek এর নাম আপনি শুনসেন। একটা কারণ হইল তিনি আলাপে, লেখায়, আড্ডায় প্রচুর জোক লাগান। এইভাবে মানুষের তিনি কঠিন কঠিন কথার চাপ থেইকা বাঁচাইয়া ফিলসফি করেন। তাতে জিজেক পৌঁছে গেছেন দুনিয়াজোড়া। স্লোভেনিয়ান দার্শনিকের এই ৯টি কৌতুক আপনার জীবনে আনতে পারে দর্শনের কূল হাওয়া।
১.জ্যাক লাকার বলা একটি জোক – এক লোক গেছে ডাক্তার বন্ধুর কাছে ফ্রি চিকিৎসা নিতে। কিন্তু ডাক্তার বন্ধুর ফাউ ফাউ চিকিৎসা দেয়ার কোন ইচ্ছা নাই। সে নানা ভাবে বন্ধুটির সারা শরীর চেক আপ করল। তারপর খুব চিন্তিত মুখে বললো- ‘তোমার আসলে ডাক্তারের পরামর্শ লাগবে!’
২.হাসপাতালে এক রোগী ডাক্তারের কাছে অভিযোগ করলো যে, অন্য রোগীদের চেঁচামেচিতে তার মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার বললো কিচ্ছু করার নাই। যারা মারা যাচ্ছে ওদেরকে শব্দ করতে নিষেধতো করা যায়না। রোগী – যারা মরবে তাদেরকে আলাদা রুমে রাখেন। ডাক্তার-এইটাই সেই আলাদা রুম।
৩.যুগোস্লাভিয়ার একটা রেসিস্ট জোক- এক জিপসিকে পরীক্ষা করছে এক সাইকিয়াট্রিস্ট।পরীক্ষার ধরন হইলো এমন, সাইকিয়াট্রিস্ট একটা করে শব্দ বলবে আর জিপসি ব্যাটাকে সেই শব্দ শুনে তার মাথায় প্রথমেই যেটা আসে চট করে বলতে হবে। লুকানোর কোন চেষ্টা করলে পরীক্ষাটা ভেস্তে যাবে। কাজেই যা মাথায় আসে তাইই বলতে হবে। জিপসি রাজী হল। প্রথম শব্দ- টেবিল। শুনে জিপসি ব্যাটা উত্তর দিলো- ফাতিমারে লাগানো। আকাশ- ফাতিমারে লাগানো। আরও কয়েকটা শব্দ বলে সাইকিয়াট্রিস্ট খেপে গেল। যাই প্রশ্ন করা হয় ব্যাটা উত্তর দেয় – ‘ফাতিমারে লাগানো।’– ‘আপনি কথা বুঝেন নাই। আপনার একদম ভেতরের কথাগুলা বলা লাগবে। আমার বলা শব্দ শোনার সাথে সাথেই আপনার মনের ভেতর থেকে কি কথা জাগে সেইটা বলা লাগবে।’ ‘হ বুঝছিতো, আমি কি বক্সদ নাকি? আমিতো সবসময় ফাতিমারে লাগানোর কথাই ভাবি।’
8.ইউরি গ্যাগারিন প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশ থেকে ফিরে আসার পর, কম্যুনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নিকিতা ক্রুশ্চেভের সংবর্ধনা পাইলেন। গ্যাগারিন তারে কইলো – কমরেড, উপরে আমি কি দেইখা আইলাম জানেন? দেখি স্বর্গ, ঈশ্বর আর হুরপরী। খ্রিষ্টান ধর্ম ঠিক কথাই কয়। ক্রুশ্চেভ ফিসিফিস কইরা কইল – জানি জানি, তুমি যে দেখছো এইডা কাউরে কইয়ো না। পরের হপ্তায় গ্যাগারিন গেল ভ্যাটিকানে।পোপেরে গিয়া কইলো – পোপ, জানেন উপরে কি দেখলাম? উপরেতো আসলে কোন ঈশ্বর নাই, স্বর্গ নাই… পোপ থামাইয়া দিয়া কইলো – আরে জানি জানি চুপ থাক। কাউরে কইও না!
৫.ঐটা হইলো সর্বকালের সেরা কৌতুক, যেখানে এক বড়লোক তার চাকরকে বলতেসে – ঐ ব্যাটা, রাস্তার ফকিন্নিটারে বাড়ি থেইকা অহনই বাইর কর। সর্বহারা মানুষের কষ্ট আমি একদমই নিতে পারি না।
১৯৪৯ এ অবিভক্ত যুগোস্লাভিয়ায় স্লোভেনিয়ার রাজধানী লুভিয়ানায় জন্ম এই দার্শনিকের। স্নাতকোত্তর তারই শহরের প্রখ্যাত লুবিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। জার্মান ভাববাদকে নিয়ে তার করা প্রথম গবেষণা দিয়ে ১৯৮১ সালে লাভ করেন ডক্টরেট ডিগ্রি। জার্মান দার্শনিক হেগেল, মার্ক্স, ক্রিপকে প্রমুখ দার্শনিকদের দ্বারা ব্যাপক প্রভাবিত জিজেক। তবুও কেউ কেউ মনে করেন জ্যাক লাকা তাঁকে সবথেকে বেশি প্রভাবিত করেন। একটা সময় চেষ্টা করেন রাজনীতিতে সক্রিয় হবার। প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করে হেরে যান ১৯৯০ সালে। এরপর যুক্ত হন কট্টর বামপন্থী রাজনীতির সাথে। বর্তমানে গবেষক হিসেবে কাজ করছেন লুভিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে। জিজেকের সিনেমা-পাঠও অদ্ভুত ও গভীর আনন্দের।
৬.যুগোস্লাভিয়ার একটা পুলিশি জোক- এক পুলিশ ভাই একদিন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরসে। ফিরেই দেখে তার বউয়ের পরনে কাপড়-চোপর নাই, চোখেমুখে উত্তেজনা। নিশ্চিত অন্য ব্যাডা মানুষ আছে! পুলিশ ঘরে খোঁজাখুঁজি শুরু করলো সাথে সাথে। উবুত হইয়া খাটের তলে খোঁজা শুরু করার সাথেই বউয়ের মুখ শুকায়ে গেল। এদিকে পুলিশ নিচে কিছুক্ষণ বিড়িবিড় কইরা উইঠা খাড়াইলো মুখে হাসি – সরি জান, গুজব আছিলো! নিচে কেউ – নাই। বউ দেখলো স্বামীর হাতে এক দলা টাকা!
৭.সোভিয়েত রাশিয়ার একটা সুন্দর ইসটুপিড জোক- একটা ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে দুই বান্দা যাইতেছিল। কেউ কাউরে চিনে না। ম্যালা সময় পার হইলো, কারো মুখে কোন কথা নাই। দুম কইরা এক বান্দায় কইল – ঐ মিয়া, তুমি কি – কোনদিন কুত্তারে লাগাইছো? ফাল দিয়া উঠলো অন্য বান্দা – নাহ, তুমি লাগাইছো নি? – নাহ মিয়া, এমন কাম মাইনষে করে নাকি? আমিতো আলাপ শুরু করার লাইগা হুদাই কইলাম।
৮.এই জোকে একটা সত্য লুকায়ে আছে। এক খ্রিষ্টান যুবতী ভার্জিন মেরির কাছে খুব মিনতি জানাচ্ছে- ‘হে মেরি, তুমি পাপ না করে গর্ভে সন্তান ধারণ করেছো! আমাকে সন্তান ধারণ না করিয়ে পাপ করার সুযোগ দাও।’ বাঁকা চোখে দেখলে, ক্রিশ্চানিটিতে কিন্তু আমাদের ফুর্তি করেও, নিষ্পাপ থাকার ভাল সুযোগ আছে।
৯.যুগোস্লাভিয়ার এক পলিটিশিয়ান ট্রেনে করে জার্মানি ঘুরছিলেন। সাথে জার্মান গাইড। একটা শহর অতিক্রমকালে তিনি গাইডকে জিজ্ঞেস করলেন- ‘এইডা কি শহর?’ গাইড উত্তর দিলো- বাডেন বাডেন (জার্মানির একটি শহরের নাম)।’ পলিটিশিয়ান খেপে গিয়ে বলে- ‘আমি কি ভোদাই নাকি? এক নাম দুইবার কও ক্যা?’
একটা ফাও … দুই ইহুদি বন্ধু একটা ক্যাথলিক চার্চের সামনে দিয়ে যাইতেছিল। চার্চের দেয়ালে একটা পোস্টার। তাতে লেখা – ‘আমাদের ক্যাথলিসিজম গ্রহণ করেন, নগদ ৩০ হাজার ডলার উপহার পান।’ এইটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে দুই বন্ধু চলে যাইতেছে। দুইজনেই ভাবতেছে সত্যি সত্যি টাকা দিবে কিনা! পরের সপ্তাহে দুই বন্ধু আবার ঐ চার্চের সামনে দাঁড়াইলো। এক বন্ধু আরেকজনরে জিগায়, – আসলেই ট্যাকা দিব? অন্যডা কয়, আরে হালা ইহুদি, খালি টাকার চিন্তাই করলি আজীবন।


