স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজার দখলে চীন-মাস্ক লড়াই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবায় বর্তমানে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইলন মাস্কের স্টারলিংক। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় সমর্থিত কোম্পানি স্পেসসেইল ও জেফ বেজোসের নতুন সেবা প্রজেক্ট কুইপার ক্রমেই এই প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে। স্টারলিংকের আধিপত্য বিস্তারের পথে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে এই নতুন প্রতিযোগীরা। রয়টার্স রিপোর্ট। গত নভেম্বরে স্পেসসেইল ঘোষণা করেছে, তারা ব্রাজিলে তাদের সেবা দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি সই করেছে এবং ৩০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে। কাজাখ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে কাজাখস্তানে কার্যক্রম শুরু করেছে কোম্পানিটি।
চলতি বছরে ৬৪৮টি এলইও স্যাটেলাইট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ হাজার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে কাজ করছে স্পেসসেইল।মহাকাশ গবেষক জোনাথন ম্যাকডাওয়েল বলেন, স্টারলিংক বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার স্যাটেলাইট পরিচালনা করছে, এবং তারা ২০৩০ সালের মধ্যে ৪২ হাজার স্যাটেলাইট পরিচালনা করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২০ সাল থেকে স্টারলিংক পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (এলইও) অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক বেশি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। এখন পর্যন্ত তার এই কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটগুলো অত্যন্ত কার্যকরভাবে তথ্য স্থানান্তর করতে পারে, যা দূরবর্তী অঞ্চলে দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করে। সমুদ্রযাত্রা এবং যুদ্ধক্ষেত্রেও এর ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
চীনের করপোরেট নথি এবং একাডেমিক গবেষণা থেকে জানা যায়, স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে স্টারলিংকের আধিপত্য চীনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বেইজিং স্টারলিংকের প্রতিদ্বন্দ্বীদের (যেমনড়স্পেসসেইল, প্রজেক্ট কুইপার) উন্নতিতে এবং স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন ট্র্যাক করার জন্য সামরিক গবেষণায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের মহাকাশ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ চৈতন্য গিরি এন মতে, চীনের লক্ষ্য হলো যতটা সম্ভব কক্ষপথের স্থান দখল করা। চীন যেভাবে মহাকাশে তার আধিপত্য বিস্তার করছে, তা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গবেষকদের মতে, ‘মহাকাশে সামরিকীকরণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই মেগাকনস্টেলেশনগুলো ট্র্যাকিং এবং পর্যবেক্ষণ করার টুল তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’


