চীনের তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদীর উজানে একটি বিশালাকৃতির জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বেইজিং থেকে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত তথ্য চেয়েছে। চীনের সরকার ডিসেম্বর ২০২৪ সালে মেদোগ জলবিদ্যুৎ স্টেশন নির্মাণ অনুমোদন করেছে। প্রকল্পটি ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্নপ্রবাহে নির্মিত হবে, যা ভারতে ব্রহ্মপুত্র এবং বাংলাদেশে যমুনা নদীতে পরিণত হয়। নির্মাণকাজ ২০২৯ সালে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তারা গত মাসে চীন থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, ফিজিবিলিটি স্টাডি, জলবায়ু প্রভাব মূল্যায়ন এবং দুযোগকালীন প্রভাব মূল্যায়ন। তবে ঢাকা এখনও কোনো উত্তর পায়নি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন –চীনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাম্প্রতিক সফরের সময় চীনা কর্মকর্তারা বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বাঁধটি একটি ‘রান-অফ-দ্য-রিভার’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হবে এবং কোনো পানি প্রত্যাহার ঘটবে না। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বিষয়টি চীনে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের সফরে সরকারিভাবে গুরুত্ব পাবে না। ব্রহ্মপুত্র একটি আন্তঃসীমান্ত নদী, যা হিমালয়ের কৈলাশ পর্বতের কাছে আংসি গ্লেসিয়ার থেকে উৎপন্ন হয়। এটি চীন, ভারত এবং বাংলাদেশে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। ১৩৭ বিলিয়ন ডলারের মেদোগ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি ৬০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে- যা চীনের থ্রি গর্জেস বাঁধের (২২.৫ গিগাওয়াট) ক্ষমতার প্রায় তিন গুণ।
চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত গণমাধ্যম মেদোগ জলবিদ্যুৎ স্টেশনকে একটি নিরাপদ এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছে যা চীনের কার্বন নিরপেক্ষতা লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। তবে পরিবেশবিদ এবং আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা নদীর ভাটিতে সম্ভাব্য বিরুপ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান বাঁধটির পরিবেশগত ও পানিপ্রবাহের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। “গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা [জিবিএম] অববাহিকার শুষ্ক মৌসুমের প্রবাহের ৭০% ব্রহ্মপুত্রের মাধ্যমে আসে,” তিনি বলেন। “নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহে বড় ধরণের হস্তক্ষেপ শুষ্ক মৌসুমের প্রবাহকে গুরুতরভাবে কমিয়ে দিতে পারে।”
তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশে যে ৫০ শতাংশেরও বেশি পলি আসে তা ব্রহ্মপুত্রের মাধ্যমে, যা বদ্বীপ অঞ্চলে ভূমি গঠন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পলিপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটলে নদী তীরের ভাঙ্গনও বাড়তে পারে। কারণ পানি এবং পলির ভারসাম্যে পরিবর্তনের সাথে নদী খাপ খাইয়ে নেয়। “আমরা সম্পূর্ণ প্রভাব মূল্যায়ন করতে পারব যখন চীন থেকে আমরা যে প্রযুক্তিগত প্রতিবেদনগুলি চেয়েছি তা পাবো,” তিনি বলেন।


