এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে চীনা প্রস্তুতকারকরা বিশ্বজুড়ে নতুন বাজার খুঁজছেন, যেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তৈরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না। চীনের কাস্টমস এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ছিল চীনের পণ্যের সবচেয়ে বড় একক ক্রেতা দেশ। চীন তার মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ১৫ শতাংশ, অর্থাৎ অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করেছিল।গোল্ডম্যান স্যাক্সসের হিসাবে, এই পরিস্থিতিতে চীনের ১ কোটি থেকে ২ কোটি চাকরি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব চাকরি মূলত আমেরিকার ভোক্তাদের জন্য পণ্য তৈরির সঙ্গে যুক্ত।
এছাড়া বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যও এই অবস্থার ওপর নির্ভর করছে। চীনের অনেক প্রস্তুতকারকের জন্য এখন নতুন বিদেশি বাজার খোঁজা ছাড়া আর কোনও পথ নেই। কারণ দেশীয় বাজারে তারা তীব্র প্রতিযোগিতা ও মন্দা অর্থনীতির মুখোমুখি। চীনের নেতারা বলছেন, তারা অভ্যন্তরীণ ভোগ বৃদ্ধি ও শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোকে সহায়তা করার পরিকল্পনা করেছেন। কিছু ই-কমার্স কোম্পানি, যেমন জেডি.কম রপ্তানিকারকদের স্থানীয় বাজারের দিকে স্থানান্তর করতে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু চীনে পরিবারের ও ব্যবসার পক্ষ থেকে চাহিদা দুর্বল। বিশাল আকারের সম্পত্তি বাজার ধস এবং ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পর চীনারা এখন বেশি সঞ্চয় করছে, খরচ করছে কম।
ভোক্তামূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাক্টরি-গেট মূল্য কমছে। আমদানি হ্রাস পাচ্ছে। এসবই দেখায়, চীনে দেশীয় ভোক্তা ব্যয় কতটা দুর্বল। উজিয়াং সিটি হংইউয়ান টেক্সটাইলের প্রতিনিধি কিয়ান শিচাও বলেন, তিনি প্রথমবার ইন্দোনেশিয়ায় এসেছেন। কারণ চীনের দেশীয় বাজার এখন খুব কঠিন অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কারখানাগুলো অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদন করছে। ফলে দাম কমানোর জন্য প্রচণ্ড প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে এবং লাভ অনেক কমে গেছে। কিয়ান বলেন, “খোলামেলা বললে, ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, আমাদের যা করার তা হলো বাইরে গিয়ে নতুন সুযোগ খোঁজা।” ইন্দোনেশিয়ার পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফ্যাব্রিকুর নির্বাহী প্রধান সুতান্তো উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, চীনা প্রস্তুতকারকরা ইন্দোনেশিয়া বাজারে সস্তায় পণ্য দিলে স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে যাবে।


