প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানিতে বাংলাদেশের একক নির্ভরতা রয়েছে চীনের ওপর। তাই এ ধরনের চামড়া বিক্রিতে খুব বেশি প্রতিযোগিতার সুযোগ নেই।অনেকটা বাধ্য হয়েই চীনের কাছে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে বাংলাদেশকে চামড়া রপ্তানি করতে হয়। নতুন বাজার বৃদ্ধি না পাওয়ায় চামড়ার চাহিদা তেমন বাড়ছে না।
ইউরোপের লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) পরিবেশগত সনদ না পাওয়ায় এক দশক ধরে বিশ্ববাজার থেকে প্রায় ছিটকে পড়েছে বাংলাদেশ। একসময় ইতালি, আমেরিকা ও কোরিয়ান বায়ার তথা ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে চামড়া নিলেও এখন তাঁরা চীনমুখী হয়ে গেছেন। আর চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে আবাসিক অফিস খুলে ট্যানারি থেকে আড়ত পর্যন্ত নিয়মিত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের একচেটিয়া কারবারে অসহায় অবস্থা এখানকার ব্যবসায়ীদের।
সাভারের হেমায়েতপুরের বিসিক চামড়াশিল্প নগরের ট্যানারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চীনা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা প্রতি বর্গফুট প্রক্রিয়াজাত চামড়ার দাম পড়ে ৬০–৭০ টাকা। কিন্তু সরকার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে ৬০–৬৫ টাকা, যা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। লবণযুক্ত চামড়া কেনার পর তা পশমমুক্ত করে শুকিয়ে রং করে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়।
চামড়ার সোনালি দিনের কথা স্মরণ করে এবিএস ট্যানারির হিসাব কর্মকর্তা আহমদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০১৫ সালের আগেও আমরা বিভিন্ন দেশে প্রতি বর্গফুট চামড়া বিক্রি করতাম তিন ডলারে। এখন তা ৫০ থেকে ৭০ সেন্টে নেমে এসেছে। তখন আমরা প্রতিটি চামড়া ৩ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েও কিনেছি।’
এবছর সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ঢাকায় মাঝারি আকারের একটি গরুর ২৫ বর্গফুটের লবণযুক্ত চামড়ার দাম হওয়ার কথা ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬২৫ টাকা। কিন্তু এই দামে নাকি রপ্তানিও করা যায় না বলে দাবি ট্যানারি ব্যবসায়ীদের। তাঁদের মতে, ইউরোপের বাজার চালু করা গেলে চামড়ার দাম বেড়ে যাবে।


