কারা ভারতে চিকিৎসা নিতে যান তার তালিকার শুরুতে আছেন ব্যবসায়ীরা, দ্বিতীয় স্থানে বেসরকারি চাকরিজীবীরা। তৃতীয় স্থানে আছেন দিনমজুরেরা।
চিকিৎসার জন্য যেসব দেশের মানুষ বিদেশে বেশি যায় সেই তালিকার দশম স্থানে বাংলাদেশ। যেসব দেশ থেকে বেশি রোগী অন্য দেশে যায় এমন ১০টি দেশের মধ্যে শীর্ষ আছে ইন্দোনেশিয়া। অন্য দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইতালি, জার্মানি, লেসেতো, দুবাই ও লিবিয়া। বিদেশমুখী বাংলাদেশী রোগীর ৫১% যায় ভারতে। থাইল্যান্ডে যায় ২০%, সিঙ্গাপুরে যায় ২০%। যুক্তরাজ্যে ৩%, জাপান ও মালয়েশিয়ায় ২% করে, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১% করে রোগী যায়। বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী রোগীদের ৫৩% যান মূলত রোগনির্ণয় বা চেকআপের জন্য। যত রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশ যান তার ৫% চিকিৎসক।
ভারতে মূলত ১১টি এলাকায় বাংলাদেশি রোগী চিকিৎসা নিতে যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যায় পশ্চিমবঙ্গে, তথা কলকাতায়। এরপর সবচেয়ে বেশি যায় দিল্লি ও তার আশপাশে। এরপর বেশি রোগীর পছন্দ হায়দরাবাদ। অন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হচ্ছে মুম্বাই, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরু। কিছু রোগী আসাম, গুজরাট, লক্ষ্ণৌ ও রাঁচিতে যান। কারা ভারতে চিকিৎসা নিতে যান তার তালিকার শুরুতে আছেন ব্যবসায়ীরা, দ্বিতীয় স্থানে বেসরকারি চাকরিজীবীরা। তৃতীয় স্থানে আছেন দিনমজুরেরা। এরপর ক্রমানুসারে আছে যথাক্রমে সরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক ও গৃহিণী। তার পরেই চিকিৎসকেরা।
দিনমজুরদের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার কারণ, দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের ঢাকায় চিকিৎসা করানোর চেয়ে ভারতে যাওয়া সাশ্রয়ী।ভারতে সবচেয়ে বেশি মানুষ যায় হৃদযন্ত্র সংশ্লিষ্ট অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্যে। পরের কারণটি হচ্ছে, চোখের ছানিজনিত অস্ত্রোপচার। তৃতীয় ও চতুর্থ বড় কারণ যথাক্রমে কিডনি রোগ ও ক্যানসার বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ও ভিসা জটিলতার কারণে রোগীদের ভারতে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় নির্ধারণে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়।
শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন আয়োজিত ‘চিকিৎসাসেবায় বিদেশমুখিতা : আমাদের উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য উপস্থাপিত হয়। বক্তারা বলেন ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ছোট ছোট ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দক্ষ চিকিৎসক ও জনবল নেই। এখানে নানা দুর্ঘটনা ঘটে, আর দুর্নাম হয় পুরো স্বাস্থ্য খাতের। দেশে অনেক ক্ষেত্রে রোগ পরীক্ষা ঠিক হয় না, টাকা অনেক বেশি নেওয়া হয় এবং সেবাদানকারীদের ব্যবহার ভালো না।


