অফিসের কাজের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন বা ব্যক্তিগত উদ্বেগ-যখন মন খুব বেশি চাপে থাকে, তখন অনেকেই দেখা যায় খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। বিশেষ করে চিপস, চকোলেট, কেক বা ফাস্টফুড জাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। এই আচরণকে বলা হয় ‘স্ট্রেস ইটিং’ বা মানসিক চাপের কারণে অতিরিক্ত খাওয়া। এটি শুধু ওজন বৃদ্ধি বা শারীরিক সমস্যার কারণই নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলে। পুষ্টিবিদদের মতে, স্ট্রেস ইটিং কোনো অভ্যাসগত দুর্বলতা নয়, এটি একটি জৈবিক প্রতিক্রিয়া। যখন আমরা মানসিক চাপে থাকি, তখন শরীরে কর্টিসল নামক এক ধরনের স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ হয়। এই হরমোন আমাদের দেহে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা জাগায়, বিশেষ করে চিনি ও চর্বি সমৃদ্ধ খাবার। চকোলেট বা চিপস তখন মনে হয় স্বস্তির উৎস।
পুষ্টিবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, “চিনিযুক্ত বা চর্বিযুক্ত খাবার খেলে মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা কিছুক্ষণের জন্য আনন্দ বা স্বস্তি তৈরি করে। ফলে আমরা বারবার এমন খাবারের দিকে হাত বাড়াই, যদিও তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।” স্ট্রেস ইটিংয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এটি প্রায়ই অজান্তেই ঘটে। আপনি বুঝে উঠার আগেই হয়তো এক প্যাকেট চিপস শেষ, তারপর একটুকরো চকোলেট, তারপর আরেকটা। এটি ধীরে ধীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ, ওজন বৃদ্ধি, হজমের সমস্যা ও ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
এই সমস্যার সমাধানে কিছু ধাপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, নিজের খাওয়ার অভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। প্রতিবার খাওয়ার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন-আপনি সত্যিই ক্ষুধার্ত, না কি শুধু মন খারাপ? পাশাপাশি মেডিটেশন, ব্যায়াম বা মনোযোগ সরানোর জন্য বই পড়া, গান শোনা বা প্রকৃতির মাঝে কিছু সময় কাটানো সহায়ক হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজেকে দোষ না দিয়ে, নিজের অনুভূতিকে বুঝে, ধীরে ধীরে সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলা। স্ট্রেস থাকবে, কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া যেন আমাদের আরও দুর্বল না করে-সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।


