রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা রসকসমস ঘোষণা করেছে, তারা চাঁদে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। বৃহৎ পরিসরের চন্দ্র অভিযানের অংশ হিসেবে এই প্রকল্পের কথা জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রসকসমস প্রধান দিমিত্রি বাকানভ বলেন, “আমরা চাঁদে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছি যা ভবিষ্যতের চন্দ্রঘাঁটির ভিত্তি হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা শুক্র গ্রহ অনুসন্ধানেও এগোব, কারণ আমরাই একমাত্র দেশ যারা সেখানে সফলভাবে নভোযান অবতরণ করাতে পেরেছি।”
প্রসঙ্গত, ১৯৭০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেনেরা মিশনই প্রথম এবং একমাত্র অভিযানে শুক্র গ্রহে প্রোব অবতরণ করাতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি আরো জানান–রাশিয়া ইন্টারনেট গতি ও কাভারেজ বৃদ্ধির জন্য স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের পরবর্তী বিকল্প হিসেবে একটি নতুন রাশিয়ান কক্ষপথ স্টেশন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত বছর আগস্টে রাশিয়ার পোস্ট-সোভিয়েত যুগের প্রথম চন্দ্রযান লুনা-২৫ অবতরণের আগে ধাক্কা খেয়ে চাঁদের বুকে বিধ্বস্ত হয়। এ মিশনটি ছিল বহুদিন পর মস্কোর মহাকাশ অভিযানে ফেরা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার পটভূমিতে রাশিয়ার নতুন করে নিজেকে প্রমাণের প্রচেষ্টা। রাশিয়া সর্বশেষ ১৯৭৬ সালে চাঁদে নভোযান অবতরণ করিয়েছিল। এরপর তারা মূলত শুক্র গ্রহ অনুসন্ধান ও মির মহাকাশ স্টেশন তৈরির দিকে মনোযোগ দেয়।


