বাংলাদেশে ব্যবসায়িক নেতারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঢাকায় এক আলোচনায় তারা বলেন, চাঁদাবাজি এখন এমন এক মাত্রায় পৌঁছেছে যা ব্যবসার পক্ষে সহ্য করা যাচ্ছে না।
২১ মে রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ(ডিসিসিআই) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী নেতারা জানান, সরকার পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলার উন্নতির আশা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। চুরি, ছিনতাই, মালামাল ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব তাদের ক্ষতির মুখে ফেলছে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ব্যবসার পরিবেশ এখন অনিরাপদ। প্রতারণা, সাইবার হুমকি ও চাঁদাবাজি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গার্মেন্টস খাতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, কিন্তু ছোট-মাঝারি ব্যবসার পাশে তেমন দাঁড়ায় না।
সরকাররে উদ্দেশে তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘আপনারা একদিকে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসার কথা বলছেন; অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে পারছেন না। দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে পারছেন না। সুদহার বাড়িয়ে বসে আছেন। এ কারণে অনেক ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়গুলোর নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটাই দাবি, নির্বিঘ্ন ও নিরাপত্তার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার নিশ্চয়তা।’
মসলা, তেল, চিনি ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসায়ীরা জানান — সড়কে চাঁদাবাজি, দালালদের দৌরাত্ম্য ও ডাকাতির কারণে পণ্য পরিবহনও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা আংশিক উন্নতির কথা বললেও স্বীকার করেন, ব্যবসার জন্য নিরাপদ পরিবেশ এখনো নিশ্চিত হয়নি। ঈদের সময় পশুবাহী গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার সচেষ্ট, হটলাইন ও বিশেষ টিম গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীও সহায়তায় মাঠে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা চিনি ও ভোজ্যতেলের বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়েও উদ্বেগ জানান।


