শুধু সৌদি আরবে বাড়লেও , বিদেশে কর্মী পাঠানো কমছে
এ বছর বিদেশে কর্মী পাঠানো কমেছে ২৪%। গত বছর চাকরি নিয়ে ১৩ লাখ ৭ হাজার ৮৯০ জন বিদেশ গিয়েছেন। আর গত ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা ৯ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৮। তাদের মধ্যে সৌদি আরব গেছেন ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৪২৩ জন, যা মোট জনশক্তি রপ্তানির ৬০%। গত দুই মাসে বিদেশে কর্মসংস্থানের ৮০%র বেশি হয়েছে সৌদিতে। গালফ নিউজ বলছে, সৌদি আরব ২০৩৪ এ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০৩০ এ রিয়াদ এক্সপোসহ বেশ কয়েকটি হাই প্রোফাইল ইভেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি বিমান চলাচল, রেলওয়েসহ বিশাল সব অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বৈচিত্র্যময় শ্রমশক্তির প্রয়োজন হচ্ছে।
সৌদি আরবের প্রয়োজনীয় শ্রম শক্তির অনেকটাই জোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ। গত মাসে ৮৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। সংখ্যাটি বিশ্বের যে কোনো দেশের অন্য দেশ থেকে মাসিক নিয়োগের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এবছর নতুন শ্রমবাজার খোলেনি বাংলাদেশিদের। মালয়েশিয়া, মালদ্বীপের মতো পুরোনো শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। আগস্ট থেকে অঘোষিতভাবে বন্ধ সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার। গত বছর অক্টোবরে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে ওমান। যুক্তরাজ্য, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত দেশেও কর্মসংস্থান সংকুচত হয়েছে বাংলাদেশিদের জন্য। জনশক্তি রপ্তানি অর্ধেকে নেমেছে ব্রুনাইয়ে। মরিশাসে বন্ধ ঘোষণা ছাড়াই। ২০১৭ থেকে বন্ধ বাহরাইনে নিয়োগ।
দক্ষ কর্মী না থাকায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সৌদি আরব এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশনির্ভর। এসব দেশে ভিসা কেনাবেচা, প্রতারণা, নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের কয়েক গুণ টাকা আদায়সহ নানা অনিয়ম হয়। দক্ষ কর্মী তৈরি ছাড়া কর্মসংস্থান বাড়বে না। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আউট পাস নিয়ে দেশে ফেরত এসেছেন ৪০ হাজার ৩০৫ কর্মী। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কাজ না পাওয়া, চিকিৎসাবঞ্চিত ও প্রতারণার শিকার হয়ে বিভিন্ন দেশে কর্মী হিসেবে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে দেশে ফিরেছেন ১ হাজার ৯২৬ জন। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের তথ্যমতে, কাজ না থাকায় দেশে ফিরতে নিবন্ধন করেছেন ৩১ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশী।


