২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া পরিস্থিতির মাঝে চট করে বিপ্লবী বাজেট দেওয়া সম্ভব নয়।
আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই বাজেট কিছুটা গতানুগতিকই হয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেছেন, “প্রাথমিকভাবে মনে করি বাজেট জনবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব। অনেকে বলেছেন আমরা আগের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি। আসলে চট করে বিপ্লবী একটা বাজেট দিয়ে দেব, দারুণ একটা রাজস্ব আয় করে ফেলব, তা সম্ভব নয়।”
কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে বাজেট করেননি জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন — উচ্চ মূল্যস্ফীতি; ব্যাংক ও জ্বালানি খাতের সমস্যা এবং রাজস্ব আদায়ের খারাপ পরিস্থিতি এসব কিছুর মধ্যেই তাকে বাজেট করতে হয়েছে। সম্পদ সীমিত, চাহিদা অনেক বেশি। বাইরে থেকে সম্পদ আনা, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, পুঁজিবাজারের অবস্থা, ব্যাংকের অবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল। এর ভেতরেই কাজ করতে হচ্ছে।
তাঁর প্রশ্ন, এত দিন যে প্রবৃদ্ধির বয়ান শোনা গেছে, তার সুবিধা কে পেয়েছে? সেখান থেকে বেরিয়ে এসে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ—এসব বিবেচনায় নিয়ে বাজেট সাজানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বৈষম্যবিরোধী পদক্ষেপ একেবারেই নেই, এ বক্তব্য মানতে নারাজ অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাজেটে নারীদের জন্য, স্টার্টআপের (নতুন উদ্যোগ) জন্য এবং যুবকদের জন্য তহবিল আছে। আরও খাতের জন্যও আছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক ক্ষেত্রে শুল্ক উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য হচ্ছে ঋণের চক্র থেকে বের হওয়া। আগের প্রকল্পগুলোর অব্যবস্থাপনা দূর করাও অন্যতম লক্ষ্য।
গতানুগতিক বাজেট, বড় পরিবর্তন নেই, চমক নেই—এসব বলা হচ্ছে। বৈষম্য কমানোর কী প্রতিফলন আছে, এমন প্রশ্নও উঠেছে। এসব কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা হঠাৎ করে এক বছর বা দেড় বছরের জন্য এসেছি। এই সময়ের মধ্যে চেষ্টা করা হয়েছে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার।’
এবারের বাজেটকে অপচয় ও অসংগতি কমানোর বাজেট বলে অভিহিত করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতেই এবার বিদ্যুৎ ও এলপিজির দাম কমানো হয়েছে। কমানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দামও। এতে গাড়ি ভাড়া কমবে।’
এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কালোটাকা সাদা করার জন্য আগের মতো কোনো বিশেষ সুযোগ নেই। তবে দুটি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর একটি হলো কেউ নিজের জমিতে অপ্রদর্শিত অর্থ দিয়ে যদি বাড়ি তৈরি করেন, তাহলে দ্বিগুণ কর দিয়ে তা ব্যবহার করতে পারবেন। দ্বিতীয় সুযোগটি হলো ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে কর ৫ গুণ করে দেওয়া হয়েছে।


