বাংলাদেশের গ্রীষ্মকাল শুধু গরম নয়, শরীরের ভেতরে নীরব পরিবর্তনের সময়ও বটে। প্রচণ্ড তাপদাহ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীর দ্রুত ঘাম ঝরায়, আর এই ঘামের সঙ্গে হারিয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ—সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম। চিকিৎসকদের মতে, এই ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা উপেক্ষা করলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, পেশির টান, এমনকি গুরুতর হিটস্ট্রোকও হতে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, ‘‘শুধু পানি নয়, শরীরে খনিজও ফেরত দিতে হবে। না হলে স্নায়ু ও পেশি ঠিকমতো কাজ করবে না।’’ এ সময় দেহের চাহিদা পূরণে তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, ডাবের পানি, লেবু-লবণ-চিনির শরবত, কলা ও দই উপকারী। এগুলো শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি খনিজ সরবরাহ করে।
তবে কিছু অভ্যাস সমস্যা বাড়ায়। চা, কফি, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার শরীর থেকে আরও পানি বের করে দেয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী ও বাইরে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য এ সময় সচেতনতা জরুরি। প্রতি ঘণ্টায় অল্প করে পানি পান, প্রস্রাবের রঙ পর্যবেক্ষণ ও হালকা খাবার গ্রহণ এগুলো সহজ নিয়ম। প্রস্রাব গাঢ় হলে দ্রুত পানি ও ইলেকট্রোলাইট যুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত। সংক্ষেপে গরমে কেবল পিপাসা মেটানো নয়; স্মার্ট খাবারের মাধ্যমে শরীরের ভেতরকার ভারসাম্য বজায় রাখাই সুস্থতার মূল চাবিকাঠি।


