বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বুধবার জেনেভা থেকে একটি ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন–ইসরায়েলি আক্রমণ ও সহায়তা প্রবেশ বন্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ চলছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও ডব্লিউএইচওর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে–গত রাতেই আরও ১০ জন ফিলিস্তিনি খাদ্যাভাবে মারা গেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে অপুষ্টিজনিত কারণে গাজায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১১ জনে। আর এর বেশিরভাগই গত কয়েক সপ্তাহে ঘটেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে–২০২৪ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যেসব শিশু মারা গেছে, তাদের মধ্যে ২১ জনের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। সংস্থাটি বলছে, মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রায় ৮০ দিন তারা গাজায় কোনো খাদ্যসামগ্রী পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে কিছু খাদ্য সহায়তা পাঠানো শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
ডব্লিউএইচও বলছে, পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে— বর্তমানে গাজায় পরীক্ষা করা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ১০% মাঝারি বা তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন এবং গর্ভবতী নারীদের মধ্যে এই হার ২০% পর্যন্ত।
শুধু জুলাই মাসেই ৫ হাজার ১০০ শিশুকে অপুষ্টিজনিত চিকিৎসায় ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮০০ জন চরম রকমের শুকনো ছিল বলে জানান ফিলিস্তিনে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি রিক পিপারকর্ন।
তিনি বলেন, ত্রাণ নিতে আসা মানুষের ওপর একের পর এক হামলার ফলে গাজায় অবশিষ্ট থাকা কিছু হাসপাতাল এখন ‘বৃহৎ ট্রমা ওয়ার্ডে’ পরিণত হয়েছে।
পিপারকর্ন আরও বলেন, খাদ্যের এমন চরম সংকট চলছে যে মানুষ স্বাভাবিক কাজকর্মই করতে পারছে না। এমনকি খাদ্যসংকটে সাংবাদিক, শিক্ষক, ডব্লিউএইচওর নিজস্ব কর্মীরাও নিজেদের কাজ করতে পারছেন না।
গাজা নগরের আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসক নূর সরাফও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘মানুষ দিনের পর দিন না খেয়ে থাকছে। এখন তারা অনাহারে মারা যাচ্ছে। অনেক সময় চিকিৎসকেরা খাবার পান না, তবু তাঁরা কাজ করে যান।’
এক যৌথ বিবৃতিতে মার্সি কর্পস, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল এবং রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনালসহ ১১১টি আন্তর্জাতিক সংগঠন জানিয়েছে, “গাজায় এখন গণ-অনাহারের পরিস্থিতি চলছে”। অথচ সীমান্তের বাইরে বিপুল পরিমাণ খাদ্য, পানি ও ওষুধ মজুদ থাকলেও ইসরাইলের অবরোধের কারণে সেগুলো সহায়তাকারী সংস্থাগুলো প্রবেশ করাতে পারছে না।
(সূত্র : প্রথম আলো, দেশ রূপান্তর)


