গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক সংকটের মাঝে হামাসের ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক আহমেদ ফুয়াদ আলখাতিব।তাঁর মতে, “হামাস গাজায় দুর্ভিক্ষকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে যুদ্ধ এমনভাবে শেষ হয় যা তাদের স্বার্থে আসে।”
গত চারদিনে শত শত ট্রাক খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী গাজায় প্রবেশ করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আলখাতিব জানিয়েছেন, “এই বিপুল সরবরাহের অল্পই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে। খাদ্য সামগ্রী গুদামে পৌঁছানোর আগেই কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে বা আটকে যাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, “সাম্প্রতিক কয়েক দিনে আমি বহু গাজাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের অধিকাংশই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। কিন্তু এই ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে হামাস। তারা মনে করে, গাজার মানুষকে এই অবস্থায় ঠেলে দেওয়ার জন্য হামাস দায়ী এবং এই যুদ্ধ শেষ করতে হামাসের অনীহা আরও বিপর্যয় ডেকে আনছে।”
একজন গাজাবাসী আলখাতিবকে বলেন, “হিটলারও শেষ যুদ্ধ পর্যন্ত নিজের বাঙ্কারে লড়েছিল, তারপর আত্মহত্যা করেছিল। হামাসও সেই পথেই হাঁটছে—তারা নিজেদের সুড়ঙ্গে লুকিয়ে থেকে গাজাকে শেষ শিশুটির মৃত্যু পর্যন্ত ধ্বংস হতে দিচ্ছে।”
আলখাতিব তাঁর নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, “হামাস প্রকৃতপক্ষে চায় গাজায় দুর্ভিক্ষ হোক। এই দুর্ভিক্ষ আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং জনমতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ফলে ইসরায়েল বিশ্বমঞ্চে নিন্দিত হচ্ছে, এবং চাপের মুখে তার কৌশল পাল্টাতে বাধ্য হচ্ছে। এই অবস্থার সবচেয়ে বড় লাভবান হচ্ছে হামাস।”
তিনি আরও যুক্ত করেন, “ইসরায়েলের উচিত খাদ্যকে অস্ত্র না বানানো। বরং গাজাকে খাদ্যে ভরে দেওয়াই হামাসকে দুর্বল করার সেরা কৌশল। কারণ হামাস যতই দুর্ভিক্ষকে হাতিয়ার বানাতে চায়, ততই যদি মানুষ খাবার পায় এবং দুঃখ কিছুটা লাঘব হয়, তাদের সমর্থন থেকে হামাস বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।”
এই পরিস্থিতি একদিকে যেমন মানবিক বিপর্যয় তুলে ধরে, তেমনি যুদ্ধের নৈতিকতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। গাজার মানুষ বর্তমানে দুই আগুনে পুড়ছে—একদিকে ইসরায়েলের অবরোধ, অন্যদিকে হামাসের ভিতর থেকে তৈরি করা কৌশল। এই দুঃসহ মানবিক সংকটের ভেতরেও আলখাতিব আশা দেখছেন খাদ্য ও সহানুভূতির মাধ্যমে একটি কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার।


