ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনাকে ‘বিগত কয়েক বছরের মধ্যে আসা প্রথম নতুন ধারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি গাজার পরিস্থিতি আমূল বদলে দিতে পারে। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, গাজাবাসীদের সরিয়ে দেওয়া হবেই এবং কেবল সন্ত্রাসবাদকে ঘৃণা করে এমন ‘ভালো’ ফিলিস্তিনিদের ফিরতে দেওয়া হবে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজের মার্ক লেভিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি (ট্রাম্পের প্রস্তাব) গাজায় সবকিছু বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে।’
ট্রাম্পের পরিকল্পনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি জোরপূর্বক উচ্ছেদ নয়। এটি জাতিগত নির্মূল নয়। গাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে যেসব দেশ ও তথাকথিত মানবাধিকার কর্মীরা বলে যে, এটি একটি খোলা-কারাগার, তারা কেন চায় যে, তাদের সেখানেই আটকে রাখা হোক?’ নেতানিয়াহু ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘তাদের একটি সাময়িক পুনর্বাসনের সুযোগ দিন। যাতে আমরা অঞ্চলটিকে আক্ষরিক অর্থেই পুনর্গঠনের পাশাপাশি উগ্রপন্থামুক্ত করতে পারি। আপনি ফিরতে চান? আপনাকে সন্ত্রাসবাদ পরিত্যাগ করতে হবে, তাহলেই আপনি ফিরতে পারবেন।’
তবে নেতানিয়াহু স্বীকার করেন যে, এই পরিকল্পনার মূল চ্যালেঞ্জ হলো গাজার বাসিন্দাদের কোথায় স্থানান্তর করা হবে। কিন্তু তিনি এটিকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবেই উপস্থাপন করেন। তাঁর ভাষায়, ‘এটি একটি নতুন ও সঠিক পন্থা…এটি খুবই ভালো, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।’ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আরও বলেন, যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইসরায়েলের প্রতি যে সমর্থন দেখিয়েছিল, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। কিন্তু ‘যখন বাইডেনের ওপর চাপ বাড়তে থাকে যাতে তিনি ইসরায়েল সম্পর্কে তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেন, তখন হোয়াইট হাউস জানিয়ে দেয় যে, যদি ইসরায়েল রাফাহে প্রবেশ করে, আমরা অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেব।’
নেতানিয়াহু দাবি করেন, তাঁর মন্ত্রিসভার কিছু সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার কারণে গাজায় চলমান যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছিলেন।কিন্তু তিনি এটিকে একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন। তাঁর সতর্কবাণী, ‘যদি আমরা একটি করদরাজ্য (ভ্যাসাল স্টেট) হয়ে যাই, তবে আমরা টিকতে পারব না।’


