যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তাব করা হয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের খসড়া এক নির্বাহী আদেশে। এতে আফ্রিকায় দেশটির প্রায় সব কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া এবং এই মহাদেশে থাকা দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়া নির্বাহী আদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ও শরণার্থী নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে কাজ করা দপ্তরগুলোর পাশাপাশি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা দপ্তরগুলোও বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে এই নির্বাহী আদেশে সই করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ১৬ পৃষ্ঠার খসড়া আদেশটির একটি অনুলিপি নিউইয়র্ক টাইমসের হাতে এসেছে।এই অনুলিপি অনুযায়ী, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুশৃঙ্খল পুনর্গঠন নিশ্চিত করা এবং অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার কমিয়ে এর কাজের প্রক্রিয়া সহজতর ও গতিশীল করা নির্বাহী আদেশটির লক্ষ্য।’ আগামী ১ অক্টোবর নাগাদ পররাষ্ট্র দপ্তর এই পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।প্রেসিডেন্ট সই করার আগে নির্বাহী আদেশের বিষয়বস্তুতে পরিবর্তনও আসতে পারে। প্রস্তাবিত এই পুনর্গঠন বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের বড় একটি অংশে নীতি গ্রহণ ও প্রণয়নে যুক্ত আঞ্চলিক ব্যুরোগুলো আর থাকবে না। এর পরিবর্তে এখন থেকে চারটি উপবিভাগের অধীনে এই ব্যুরোগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উপবিভাগগুলোর মধ্যে ‘ইউরেশিয়া’ ইউরোপ, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়া নিয়ে গঠিত। ‘মিড-ইস্ট’ উপবিভাগের অধীনে পড়েছে আরব দেশগুলো, ইরান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। ‘লাতিন আমেরিকা’ উপবিভাগে পড়েছে মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল। ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ উপবিভাগ পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর দেখভাল করবে। সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটা হলো আফ্রিকা মহাদেশসম্পর্কিত ব্যুরো বাদ দেওয়া। এর পরিবর্তে অনেক ছোট পরিসরে গঠিত বিশেষ দূতের দপ্তর আফ্রিকা সম্পর্কিত বিষয়গুলো দেখবে। এই দপ্তর হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের অধীনে কাজ করবে। ‘সমন্বিত সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের’ মতো হাতে গোনা কিছু বিষয়ের ওপর এই দপ্তর জোর দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা–ইউএসএআইডির অবশিষ্ট অংশের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে মানবিক সহায়তাবিষয়ক ব্যুরো। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তার হাতে এই সংস্থা (ইউএসএআইডি) রীতিমতো বিলুপ্ত হয়ে গেছে।


