রবিবার লন্ডনভিত্তিক চ্যানেল এস টেলিভিশনে ‘আওয়ামী লীগ: তটস্থ, হতাশ, কোণঠাসা?’ শীর্ষক সাক্ষাৎকারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ৫ অগাস্ট সরকার পতনের প্রায় তিন মাসের মাথায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতা এই প্রথম সাক্ষাৎকার দিলেন। লীগ সরকারের পতনের পর হাছান মাহমুদের দেশ ছাড়ার খবর এসেছিল। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন বিএনপি যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলছে, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছে, সেটির সাথে আমরা একমত। প্রয়োজনে বিএনপির সাথে একযোগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা কাজ করতে প্রস্তুত। এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন- বিএনপির অনেক বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত। আমরা ১/১১ সরকারের সঙ্গে একযোগেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য, গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছিলাম এবং গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। তিনি বলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বলেছেন ‘রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার আমরা কারা?’- এই যে প্রশ্ন তুলেছেন আমি এটির সাথে একমত। এমনকি ছাত্রলীগকে কাগজে নিষিদ্ধ করার পর সেটির বিরুদ্ধেও তারা বক্তব্য দিয়েছেন। মাহমুদ বলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং মহাসচিবসহ তাদের শীর্ষ নেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা- এই বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
তিনি বলেন, বিএনপি অবশ্যই সবসময় নির্বাচন বর্জন করেছে, নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। তবে যেহেতু আমরা দায়িত্বে ছিলাম, ২০১৪ সালে এবং ২০২৪ সালে তাদের নির্বাচনে আনতে না পারাটা আমাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ছিল। আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে প্রায় ১৫০০ মানুষ নিহত হওয়ার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও সেই সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে হাছান মাহমুদ বলেন- আসলে কতজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, সেটি এখনও তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়। তিনি বলেন- পুলিশকে যখন আক্রমণ করা হয়, পুলিশের কি আত্মরক্ষার অধিকার নাই? পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং পুলিশের ওপর গুলি ছোঁড়া হয়েছে এবং তখন তো পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি যে ছোড়েনি তা নয়, অবশ্যই ছুঁড়েছে। সেজন্য এই পুলিশের দায় আমরা কখনও অস্বীকার করি না। বা সরকার পক্ষের দায় আমরা অস্বীকার করি না। এখনও অস্বীকার করছি না। অবশ্যই দায়িত্বে থাকলে দায় নিতে হবে।


