দৈনিক সমকালের সাথে সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম বলেন – আমরা ডেডলাইন দিয়ে তাদেরকে ভারাক্রান্ত করতে চাই না। কিন্তু আমরা চাই যে অতিদ্রুত নির্বাচন করা দেশের জন্য, জনগণের জন্য ভালো। আপনি যত দেরি করবেন তত ক্ষতি হবে।
“ মূল ইস্যু হচ্ছে যে আপনি কবে ইলেকশন করবেন। এ জন্য আমি কয়েক দিন ধরে তাদের বলেছিলাম একটা রোডম্যাপ দেওয়ার জন্য। আমরা আশা করেছিলাম, যখন তিনি জাতির উদ্দেশ্যে কথা বলবেন, সেখানে যেন তিনি রোডম্যাপটা দেন। কিন্তু সেই রোডম্যাপ আমরা দেখিনি।
তার একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নির্বাচন। অবশ্য নির্বাচনের আগেই প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করা দরকার। সেই কাজগুলো তিনি করবেন। তা না হলে আবার ওই ১/১১-এর মতো একটা সমস্যা তৈরি হবে। দেশবাসীর মধ্যে ইতোমধ্যে বিরাজনীতিকীকরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
“… মৌলিক সংস্কার তাদের (নির্বাচিত প্রতিনিধিদের) দিয়েই করাতে হবে। তার জন্য নির্বাচন লাগবে। আমরা বলছি, নির্বাচনটা করার যতটুকু সংস্কার করা দরকার ততটুকু করে, বাকি কাজ নতুন পার্লামেন্টের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। সংবিধান পরিবর্তন করবেন, এটার অর্থনীতি কে? আপনার সেই অথরিটি কোথায়? এটা করার জন্য প্রস্তুতলো সংস্কৃত গুলো আনতে হবে।
… আপনি দেশে একটা সংস্কার করলেন, সেটাকে আইন বৈধতা দেবে কে? রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়া তো কোনো সংস্কার প্রক্রিয়া চালানো যাবে না। এটা অসম্ভব। আপনাকে অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে একমত্যের ভিত্তিতে এগোতে হবে।”
“… খোলাখুলি বলছি, ওনাদের অবস্থানটা আমার কাছে পরিষ্কার না। অন্তবর্তী সরকারের মধ্যে বোঝাপড়া করে কিছুটা মত কাজ করছে। কেউ চায় যে এখনই সবকিছুর সংস্কার করা হবে। আবার কেউ চায়, অত্যন্ত না গিয়ে বিদ্যমান সংবিধানের মধ্যে থেকেই আমরা প্রয়োজনীয় সংস্কার করব। কিন্তু সরকার তো মুখ খুলছে না।
… তারা কী করতে চান, সেই কথাগুলো স্পষ্ট করে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
… আমরা ডেডলাইন দিয়ে তাদেরকে ভারাক্রান্ত করতে চাই না। কিন্তু আমরা চাই যে অন্তর্বর্তী নির্বাচন করা দেশের জন্য, জনগণের জন্য ভালো। আপনি যত দেরি করবেন তত ক্ষতি হবে।”
“… তাদের (অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতা) নেতৃত্বই বাংলাদেশের জনগণ একটা অসাধ্য সাধন করেছে। একটা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে তারা সরিয়েছে।
… তারা কৃতিত্বের দাবিদার। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, এটা কিন্তু চিরস্থায়ী না। যদি তারা মনে করে যে সবকিছুই তাদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, তাহলে বোঝা যায় সেটা সঠিক হবে না।”
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম


