খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভাঙার সংস্কৃতি ও উপকার নিয়ে হাদিস ও কোরআনে বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে। তাজা বা শুকনো খেজুর গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবার ধারণ করে। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও থাকে। দীর্ঘ রোজার পর প্রাকৃতিক চিনি ফ্রুক্টোজের উচ্চমাত্রার কারণে খেজুর শক্তির একটি দুর্দান্ত উৎস হিসেবে কাজ করে। হাজার হাজার বছর ধরে খেজুর চাষ করা হচ্ছে। একটি খেজুর গাছ ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করলে ১০০ বছরেরও বেশি বাঁচতে পারে এবং একটি পরিপক্ক খেজুর গাছ প্রতি ফসল মৌসুমে ১০০ কেজিরও বেশি (২২০ পাউন্ড) খেজুর উৎপাদন করতে পারে- প্রায় ১০,০০০টি খেজুর।
খেজুর গাছ সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মতো দীর্ঘ, গ্রীষ্মের গরম দেশগুলোতে ভাল জন্মায়। খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক ডেটাবেস ট্রিজ (ঞত্রফমব) অনুসারে ২০২২ সালে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ কোটি টন খেজুর উৎপাদিত হয়েছিল। ট্রিজ (এফমব) অনুসারে, মিশর বিশ্বের শীর্ষ খেজুর উৎপাদনকারী দেশ, যা বিশ্বের প্রায় ১৮% খেজুর উৎপাদন করে। সৌদি আরব মোট উৎপাদনের প্রায় ১৭% উৎপাদন করে মিশরের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। আলজেরিয়া ১৩% উৎপাদন নিয়ে শীর্ষ তিনে স্থান করে নিয়েছে। এরপরের অবস্থানে আছে ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, সুদান ও ওমান। ট্রিজ (ওএফমব) এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম খেজুর রপ্তানিকারক দেশ, যারা ২০২২ সালে ৩৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের মেজুল খেজুর বিদেশে বিক্রি করেছে।
ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে গড়ে ওঠা “বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট, স্যাংশনস মুভমেন্ট” (বিডিএস) নামের একটি আন্দোলন ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন পণ্য কেনার সময় লেবেল ভালোভাবে দেখে, এবং ইসরায়েল অথবা অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোতে উৎপাদিত বা প্যাকেটজাত কোনো খেজুর না কেনে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন অবৈধ। বিডিএস ইসরায়েলের বর্ণবাদ ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জনমত গঠন এবং ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছে।তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইসরায়েলের নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা এবং ইসরায়েলের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।


